ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের প্রাচীনতম নাট্য সংস্থা ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির নবযাত্রা শুরু হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই নাট্য সমিতি নতুন অঙ্গীকার ও উদ্দীপনায় উজ্জবিত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টায় সমিতির নিজস্ব নাট্য মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। নাট্য সমিতির ব্যবস্থাপনায় ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম নাট্য সংগঠন শাপলা নাট্য গোষ্ঠী পরিবেশন করে গ্রীক ট্রাজিক নাটক সোফোক্লেসের কালজয়ী নাটক ‘অয়দিপাউস’।
নাটক মঞ্চায়নের আগে সংস্কার পরবর্তী মিলনায়তন ও মঞ্চ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারাজানা।
প্রসঙ্গত, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল এ্যান্ড জর্জ করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব’ এই উপমহাদেশের প্রাচীনতম ড্রামাটিক ক্লাব। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর এর নামকরণ করা হয় ‘কায়েদে আজম মেমোরিয়াল হল এন্ড ড্রামাটিক ক্লাব’। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে নামকরন করা হয় ‘ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতি’। ঠাকুরগাঁওয়ে নামী দামি ও গুণি ব্যক্তিগণ ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন ও নাটকে অভিনয় করেন।
তৃপ্তি ভাদুরী পরে তৃপ্তি মিত্র, মির্জা রুহুল আমীন, ফজলুল করিম, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রফেসর মনতোষ কুমার দে, ওমর আলী, কেদারনাথ বন্দোপাধ্যায়, পান্নালাল ঘোষ, সলিমউদ্দিন, আনোয়ার ফারুক, আকবর হোসেন, আব্দুল গোফরান, বজলার রহমান, আব্দুল লতিফ মোক্তার, সলিম উদ্দিন ওরফে ছলিম খলিফা, নিত্যলাল কর্মকার, বিবেকানন্দ রায়, সুশীল ভট্টাচার্য, ফণী ভূষণ পালিত, কেরামত আলী, হরিদাস গুহ ঠাকুরতা (ছোট), জগন্নাথ গুহ ঠাকুরতা (জগুদা),রমেশ হোড়, হীরেন্দ্র কিশোর দেধারা, বলরাম গুহ ঠাকুরতা, নরেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, নূরুল হক তাতলিন, আব্দুর রশিদ চিত্রা, মহাদেব দত্ত, কালিদাস গুহ ঠাকুরতা, প্রণব গুপ্ত, প্রমুখ কালজয়ী অভিনেতাগণ এই মঞ্চে অভিনয় করেছেন।
নাটক মঞ্চায়ন শেষে সমিতির অন্যতম সদস্য মো. আব্দুল লতিফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও নাট্য সমিতি নাটক মঞ্চায়ন অব্যাহত রেখেছিল বহু বছর। কিন্তু এক সময় সমিতির কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। স্থবির হয়ে পড়ে সমিতি। নানা কারণে প্রায় ধ্বংস হয়ে পড়ে সব কিছু। মিলনায়তনটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে কয়েকজন উদ্যোগী সদস্য এটিকে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে গঠন করা নতুন কমিটি। তাদের চেষ্টায় এবং কিছুদিনের মধ্যে মিলনায়তনটিকে সংস্কার করে নাটক মঞ্চায়নের উপযোগী করা হয়। শুরু হয় নবযাত্রা।
পরে অন্যতম সদস্য প্রফেসর মনতোষ কুমার দে সমিতির এই হলের কিছু ইতিহাস তুলে ধরে শাপলা নাট্যগোষ্ঠীর অউদিপাউস নাটকের কলাকুশলীদের অভিনয়ের প্রশংসা করেন।
শেষে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা নাটকের অভিনয় ঢাকার নাটকের অভিনয়ের সাথে তুলনা করে বলেন তিনি অভিভূত। তিনি নাট্য মঞ্চ ও মিলনায়তনের উন্নয়ণের আশ্বাস দেন।