1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. abedali4249@gmail.com : dailydeshkantha :
  3. zaharuliofficial@gmail.com : Zaharul Islam : Zaharul Islam
রোয়াংছড়িতে নিখোঁজ ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার - dailydeshkantha
১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| রবিবার| সকাল ১১:৫০|

রোয়াংছড়িতে নিখোঁজ ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫,
  • 142 Time View
রোয়াংছড়িতে নিখোঁজ ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার
রোয়াংছড়িতে নিখোঁজ ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার

বান্দরবান জেলা সংবাদদাতা, সাইফুল্লাহ ছিদ্দিকী: বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে গত ১৪/০৯/২৫ ইং তারিখে নিখোঁজ হওয়া ইজিবাইক (টমটম) চালক অমন্ত সেন তঞ্চংগ্যা (৪৬) এর মরদেহ নদীতে ভাসমান অবস্থায় রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

 

শনিবার ২০সেপ্টেম্বর/২৫ ইং তারিখে বান্দরবান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউছার পি পি এম বার বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি থানাধীন ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া অমন্ত সেন তঞ্চংগ্যার মৃত দেহ উদ্দার এবং এই ঘটনায় জড়িত এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতারের বর্ণনা দেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জনাব আব্দুল করিম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, প্রশাসন ও অর্থ), জেনিয়া চাকমা (অতি:পুলিশ সুপার, ক্রাইম এন্ড অপস), জনাব মান্না দে (অতি: পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল), জনাব এম সাকের আহমেদ (অফিসার ইনচার্জ, রোয়াংছড়ি থানা), জনাব শুভ্র মুকুল চৌধুরী (এস.আই, তদন্তকারী কর্মকর্তা), জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন (এস.আই, রোয়াংছড়ি থানা) এবং বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ভিকটিম অমন্ত সেন তঞ্চংগ্যা (৪৬), পেশায় একজন ইজিবাইক (টমটম) চালক। সে প্রতিদিন সকাল অনুমান ৭:০০ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ০৭:০০ঘটিকা পর্যন্ত রোয়াংছড়ি স্টেশন ও তার আশপাশের এলাকায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তার বসতঘর দুরে ও পাহাড়ের উপরে হওয়ায় সে প্রতিদিন দুপুর বেলায় তার ভাই রোসিকো তঞ্চংগ্যা এর বাসায় খাওয়া দাওয়া করে এবং সারাদিন ইজিবাইক চালিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইজিবাইকটি তার ভাইয়ের বাসায় চার্জে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়।
কিন্তু পরদিন অর্থাৎ ১৫/০৯/২৫ ইং তারিখ সকাল পর্যন্ত সে বাসায় ফিরে নাই।

 

তখন তার ভাই রোয়াংছড়ি থানায় সংবাদ দেয় এবং থানা পুলশের সাথে ভিকটিমের আত্বীয় স্বজন মিলে তাকে খুজতে থাকে। খোঁজাখুজির এক পার্যায়ে জানা যায় ভিকটিম ১৪/০৯/২৫ ইং তারিখ রাত অনুমানিক ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত ওয়াগয়ে পাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনৈক ফয়েজ এর বেলুন তৈরির কারখানায় বসে কারখানার কর্মচারী এবং মালিক ফয়েজসহ মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখছিলো। খেলা দেখা শেষে রাত অনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় ভিকটিম তার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

 

কিন্তু পরদিন অর্থাৎ ১৫/০৯/২৫ ইং তারিখ সকাল ৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত বাড়িতে না যাওয়ায় খোঁজাখুজির একপর্যায়ে গত ১৫/০৯/২৫ ইং তারিখ সকাল অনুমানিক ১০:০০ ঘটিকা সময় রোয়াংছড়ি থানাধীন ৩ নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নাথিং ঝিরি সাকিনস্থ জনৈক মেদু মারমা’র ভাড়াটিয়া বাসার পিছনে তারাছা খাল সংলগ্ন বাঁশঝাড়ের নিচের কাঁচা রাস্তার উপর কাদা মাখা অবস্থায় ভিকটিমের ব্যবহৃত কাপড়ের ব্যাগ ও মোবাইল পাওয়া যায়। এবং উক্ত স্থানে রক্ত মাখা অবস্থায় দুটি কাঁচা বাশের দুটি বড় কঞ্চি ও একটি ভাঙ্গা গাছের টুকরা পাওয়া যায়। এছাড়াও ঘটনাস্থলে প্রচুর রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ উক্ত আলামতগুলো জব্দ করে। ভিকটিমকে খোঁজাখুজির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।

 

গত ১৬/০৯/২৫ ইং তারিখ সন্ধ্যা অনুমানিক ০৬:৩০ ঘটিকার সময় বান্দরবান সদর থানাধীন বান্দরবান পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড এর কাশেমনগর সাকিনের সাঙ্গু নদীর কিনারায় পানির উপর ভাসমান অবস্থায় একটি মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়। লাশটি নিখোঁজ ভিকটিম অমন্ত সেন তঞ্চংগ্যার মর্মে সনাক্ত হয়। বান্দরবান সদর থানা পুলিশ ও রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ উদ্ধার করতঃ লাশের রিপোর্ট তৈরি ও পোস্ট মর্টেম সম্পন্ন করেন।

 

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে গত ২০/০৯/২০২৫ ইং তারিখে সন্দেহভাজন আসামী রাজন্ত তঞ্চংগ্যাকে গ্রেফতার করে।

 

জিঙ্গাসাবাদে আসামী স্বীকার করে মুনাফা দেয়ার শর্তে সে ভিকটিম অমন্ত সেনকে মোট ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছিল। কিন্তু সাত-আট মাসেও ভিকটিম তাকে কোন টাকা দেয়নি। গত ১৪/০৯/২৫ ইং তারিখ রাত অনুমানিক ১০ টার সময় ভিকটিমের সাথে তার দেখা হয়। তখন তিনি জরুরি প্রয়োজনে ভিকটিমের নিকট থেকে পাওনা টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা চাইলে ভিকটিম ক্ষেপে গিয়ে তাকে বলে যে, “এখন কোন টাকা নাই।

 

এ বিষয়ে পরে কথা বলব”। তখন আসামী তাকে অন্তত ৫,০০০ টাকা দিতে বলে। তারপরও ভিকটিম কিচু না বলে চলে যায়। তখন আসামী পথে তারজন্য অপেক্ষা করতে থাকে। রাত অনুমান ১১ ঘটিকার সময় ভিকটিম বাড়ি যাওয়ার পথে আবার দেখা হয়। ভিকটিম তখন আসামীকে এখনো বাড়ি যাইনি কেন জিঙ্গাসা করলে আসামী তাকে বলেন তার টাকার খুব দরকার। টাকার জন্য সে অপেক্ষা করতেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                                    Themes Create by BDITWork