বেরোবি প্রতিনিধি পারভেজ হাসান সায়েম:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলমান আমরণ অনশনে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাদের সেখানেই স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১ টা থেকে শুরু হওয়া অনশন কর্মসূচি ২২ ঘণ্টা ধরে চলমান। অনশনে অংশ নেয়া তিন শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুম্মানুল ইসলাম রাজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান জয় মধ্যরাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনসনস্থলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব জানালে অনশনরত শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন কর্মসূচি পালন করে যাবেন বলে জানান। এমতবস্থায় অনশনস্থলেই অসুস্থ তিন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং স্যালাইন দেয়া হয়।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী, রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ, প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ও ছাত্র উপদেষ্টা ইলিয়াস প্রামাণিকসহ কয়েকজন শিক্ষক অনশনরতদের খোঁজখবর নিতে আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপান্তর করার অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন।
এসময় উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারা সংযুক্ত না থাকায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। আইন সংশোধনের পর চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। তবে আইন সংশোধন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে হয়, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এজন্য বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে আমি ইতিমধ্যে ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেছি।”
গতকাল রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংশোধন করে ছাত্র সংসদ নির্বাচন যুক্ত করা এবং আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেটের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। বিকেলে আরও শিক্ষার্থী এতে যোগ দেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।