জহুরুল ইসলাম- নীলফামারী-প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চব্বিশের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর গুলি চালিয়ে একজনকে আহত করার ঘটনায় হওয়া মামলায় আটক আসামী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আব্দুল গফুর সরকারের চাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকার।
এই যোগদান নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। অধিকাংশের মন্তব্য হলো অভ্যুত্থান পরবর্তী নাশকতার মামলা থেকে বাঁচতে ও চেয়ারম্যানী রক্ষা করতেই সাময়িক আশ্রয় হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন সরকার। কারণ তিনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলি চালিয়ে নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আহত করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে ৬ সেপ্টেম্বর হওয়া বিষ্ফোরক মামলায় ওই বছরের ৬ অক্টোবর আটক হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলা নং- ০৪, জিআর ১৮৭/২৪। ধারা- ১৪৩/৩৩২/৩২৬/৪৩৬া/৪১১/৩৪ সহ ১৯০৮ সালের বি®েফারক দ্রব্য আইনের ৫/৬ ।
তাছাড়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি ব্যাপক দূর্নীতি করে আসছেন। যা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও অব্যাহত আছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পরও তিনি একই ধারায় চলছেন। বিএনপি’র স্থানীয় শীর্ষ নেতার সাপোর্ট নিয়েই তিনি এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মনে করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতার সাথে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের একসঙ্গে বিএনপিতে যোগদান শুধু দলের সাংগঠনিক শক্তিই বাড়াবে না, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বেশির ভাগের অভিমত ভিন্ন।
কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, এরা আওয়ামীলীগের দোসর। এরা আওয়ামীলীগেরই থাকবে। মনে প্রাণে তারা বিএনপিকে কখনোই গ্রহণ করবেনা। তারা খুন, গুম, লুটের মামলা থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে যোগদান করেছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তারা আবারও আওয়ামীলীগের হয়ে আমাদের উপর নির্যাতন করবে। এখন শুধু সাময়িক সুবিধা নেয়ার জন্য তারা বিএনপিতে আশ্রয় নিয়েছে। এতে বিএনপির কোন লাভ হবেনা বরং ক্ষতিই হবে। এই যোগদানের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং অনুষ্ঠানে ডাকাও হয়নি। আমরা যারা এতদিন মামলা, হামলা, নির্যাতন সহ্য করে বিএনপিতে টিকে আছি তাদেরকে মূল্যায়ণ করা হচ্ছেনা।
রাফি নামে এক ছাত্র নেতা বলেন, নিজস্ব ভোটে জয়ের সম্ভাবনা নেই, তাই ফ্যাসিস্টদের ভোট পাওয়ার আশায় এসব লোকজনকে দলে ভেড়ানো হচ্ছে। যাদের নিজেদেরই কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই সমাজে। আওয়ামী লীগকে পূনর্বাসনের এই কালচার কখনোই ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবেনা। বরং দলের জন্য বুমেরাং হবে। এই পোস্টে কমেন্ট করে ফিরোজ নামে এক যুবদল নেতা লিখেছেন, আওয়ামী লীগ পূনর্বাসনকারীদের বিরুদ্ধে একসাথে আন্দোলন শুরু করতে হবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানুষ এখন বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিই সক্ষম দল। গতকাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাদের তালিকা আজ হাতে পেলে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে ঠিক কতজন যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত, আবার অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ আন্দোলনের কোন মামলায় আনোয়ার সরকারের নাম ছিলনা। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থাকলে সেটা পুলিশের ব্যাপার। আমাদের কোন অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। তিনি আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন এটাই কথা। আর তিনি যদি চেয়ারম্যান হিসেবে কোন অনিয়ম দূর্নীতি করে থাকেন তা তার বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি তার পরিণতি ভোগ করবেন। প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে অপরাধী বলতে পারিনা। তাই তাকে দলে নেয়ায় কোন অসুবিধা নেই।
- জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা যাদের দলে নিয়েছি, তাদের অনেক বাছাই করেই নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা আমাদের উপর কোন প্রকার দমন পীড়ন বা নির্যাতন করেনি বরং ভিন্ন দলের হয়েও সহাবস্থান ছিল এবং যাদের দলে নিলে ভালো হবে তাদেরকেই প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। এখনও কোন সদস্য পদ দেয়া হয়নি।