সাইফুল ইসলাম, রামগড়: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ছোট ফরিংগা সীমান্তে খাগড়াছড়ির রামগড় ৪৩ বিজিবির (আওতাধীন)পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৭ নভেম্বর) গভীর রাতে তালতলী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি সদস্যরা। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য স্থানীয় সূত্র মতে কয়েক লক্ষাধিক টাকা।
বিজিবি জানায়, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বাড়তে থাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আহসান উল ইসলামের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টহলদল তালতলী সীমান্তপথে অতিরিক্ত টহল শুরু করে।রাত গভীর হলে চিহ্নিত রুট দিয়ে ভারতের দিক থেকে ৩ জন চোরাকারবারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা হাতে থাকা দু’টি বস্তা ফেলে দিয়ে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।ফেলে যাওয়া দুটি বস্তা খুলে দেখা যায়—ভেতরে ১৫টি ছোট প্যাকেটে রাখা ৩০ কেজি গাঁজা। বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলেই মাদকগুলো জব্দ করে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নিয়ে যান। পরে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় মাদকগুলো জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।
বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সীমান্তের ওই অংশটি চোরাচালানকারীদের একটি অস্থায়ী রুটে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষাকাল বা শীতের রাতের অন্ধকারে এ এলাকায় নজরদারি শিথিল থাকলে চোরাকারবারীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবি সেখানে একের পর এক অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি মাদক চালান আটক করেছে।
রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আহসান উল ইসলাম বলেন—“সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আমাদের টহল, নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম সবই আগের থেকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন—
“মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। তাই জনগণকে সচেতন করতে এবং সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম দমনে আমরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। চোরাচালান, মানবপাচার ও মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় লোকজন বিজিবির এই অভিযানের প্রশংসা করেন। তাদের দাবি, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চালালে শীত ও বর্ষার মৌসুমে সক্রিয় হয়ে ওঠা চোরাকারবারী চক্রগুলো কার্যত দমন করা সম্ভব হবে।