সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভার শুরুতে দারসুল কুরআন উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ সভা চলে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত। এতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সেক্রেটারি জেনারেল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে আসছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে দলটির নেতাকর্মীরা জেল, মামলা, হামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে বর্তমান সরকার সেই আন্দোলনের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাণিজ্য ও দুর্নীতি বেড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সভায় তিনি শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণ সমাজ ও আলেমদের দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়।