1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. abedali4249@gmail.com : dailydeshkantha :
  3. zaharuliofficial@gmail.com : Zaharul Islam : Zaharul Islam
মমতার দুর্গ ভেঙে যেভাবে খান খান করলো বিজেপি - dailydeshkantha
৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| মঙ্গলবার| রাত ৩:৪৭|
শিরোনামঃ
মুসলিমরা মমতাকে ভোট দিয়েছে, আমার জয় হিন্দুত্ববাদের জয় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান আমলারা শাসক নয় সেবক হবে, স্বচ্ছ নির্বাচনে ডিসিদের ভূমিকা মুখ্য : স্পিকার মমতার দুর্গ ভেঙে যেভাবে খান খান করলো বিজেপি নওগাঁর আত্রাইয়ে উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় মাঠের পাকা ধান, রাতে নেই কৃষকের নওগাঁর আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত জামায়াত কখনও সুস্থ চিন্তা করতে পারে না: মির্জা ফখরুল মাসসেরার পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল ২ মাস পর নিজেদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলল ইরান বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে : শফিকুর রহমান

মমতার দুর্গ ভেঙে যেভাবে খান খান করলো বিজেপি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, মে ৪, ২০২৬,
  • 20 Time View

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করেন সীমা দাস। দুই দিনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজ গ্রামে পৌঁছান তিনি। একাধিক ট্রেন পাল্টিয়ে সময়মতো গ্রামে ফেরার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া।

সীমা আগে সবসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) ভোট দিয়েছেন। ২০১১ সাল থেকে মধ্যপন্থী এই রাজনৈতিক দলটিই ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু এবার সীমা দাসের শাশুড়ি তাকে বুঝিয়েছেন, ‌‌‘‘দিদি’’ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকনাম) কেবল মুসলিমদের পক্ষ নেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সীমা দাস বলেন, ‘‘দিদি পথভ্রষ্ট হয়েছেন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে কেবল মুসলিমদের তোষণ করছেন।’’

তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। যদিও তৃণমূল বরাবরই ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেয়। তবে গত ১৫ বছর ধরে ৯ কোটিরও বেশি মানুষের এই রাজ্য মমতা ও তার দল শাসন করলেও সেখানে ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছে বিজেপি। যেখানে একসময় প্রান্তিক শক্তি ছিল মোদির এই রাজনৈতিক দল।

সোমবার সেই দৃশ্যপট বদলে গেল। পশ্চিমবঙ্গ জয় করল মোদির বিজেপি। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, মোদির সুশৃঙ্খল নির্বাচনী কলাকৌশল বিজেপিকে এক অভাবনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে চলেছে। এমন একটি রাজ্যে বিজেপি এই বিজয় পেল, যেখানকার মানুষ ছিলেন দলের আদর্শিক প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু এর আগে বিজেপি কখনও সেখানে জিততে পারেনি।

ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ বিজেপি রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০০টিতে জয়ী হয়েছে অথবা এগিয়ে আছে। এর আগে, ২০২১ সালে ৭৭টি আসনের বিজয় ছিল বিজেপির এযাবৎকালের সেরা ফল। সোমবারের ফলাফলে মমতার তৃণমূল মাত্র ৮৭টি আসনে এগিয়ে আছে কিংবা জয়ী হয়েছে।

সোমবার যে পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে অন্যতম। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের নতুন দল টিভিকি সেখানকার প্রভাবশালী দলগুলোকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে। প্রতিবেশী কেরালায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বামপন্থীদের জোটকে পরাজিত করেছে। পুদুচেরিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়েছে। আর উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সোমবারের ফলাফলগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ফলই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণ এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।

• পূর্ব ভারতের মমতার দুর্গে ফাটল
কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৭৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা বামফ্রন্ট জোটের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই না করার অভিযোগে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই আইনজীবী ও শিক্ষার্থীনেত্রী শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে কমিউনিস্টদের পরাজিত করে রাজ্য জয় করেন।

২০১৪ সালে মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই মমতা বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি তার রাজনীতিকে; বিশেষ করে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি নারীদের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেন এবং বড় শিল্পের জন্য বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। চেন্নাইয়ের শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক রাহুল ভার্মা বলেন, ‌‌‘‘মমতার প্রতি দৃশ্যমান জনসমর্থন ছিল এবং তিনি জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ কাজ করছিল। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনের জীবনে তাদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে মানুষ খুশি ছিল না।’’

তিনি বলেন, বিজেপি এবার অনেক বেশি পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়েছে। এটি বিজেপির জন্য কঠিন নির্বাচন ছিল। কিন্তু অসম্ভব ছিল না। অধ্যাপক ভার্মা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জন্য একটি পথ খোলাই ছিল এবং সব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এই ফল এসেছে। শক্তিশালী সরকার-বিরোধী হাওয়া ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে এমন ফলাফল সম্ভব হতো না।’’

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটের প্রায় ৯২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। রাজ্যের ইতিহাসে ভোটদানের একটি রেকর্ডও এটি।

নয়াদিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীণ রাই বলেন, তৃণমূল ভোটারদের ‘‘নতুন কিছু দিতে পারেনি’’ এবং দলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র ক্ষোভ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যারা তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তাদের প্রতি দলটির আচরণ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রয়োজনগুলো বুঝতেও তৃণমূল ব্যর্থ হয়েছে।

রাই বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এই পরাজয় জাতীয় পর্যায়ে মোদির বিকল্প হিসেবে মমতার উঠে আসার স্বপ্নকেও দুর্বল করে দেবে। তবে এর প্রভাব কেবল মমতার ওপরই সীমাবদ্ধ নয়; বিজেপির এই জয় এবং তৃণমূলের বিপর্যয় মোদি-বিরোধী সমস্ত দলের রাজনৈতিক শক্তিকে কমিয়ে দেবে।

এটি দুই বছর আগের পরিস্থিতির তুলনায় এক বিশাল পরিবর্তন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদির দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং টিকে থাকার জন্য মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীণ রাই বলেছেন, সোমবারের এই জয় সাধারণ নির্বাচনের সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা এবং মোদির নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে আরও সুদৃঢ় করবে।

• ধর্মীয় মেরুকরণ আর ভোট সংস্কারের বিতর্ক
ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো নীলাঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, তার দলের সদস্যরা ভোটারদের মধ্যে শহর ও গ্রামের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করেছিলেন। নীলাঞ্জন সরকার বলেন, শহরের পুরুষ ভোটাররা ব্যাপকভাবে মেরুকৃত হয়ে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসংখ্যা আনুপাতিকভাবে গ্রামীণ এলাকায় বেশি হওয়ায় এবং মেরুকরণের প্রভাবে বিজেপির জয়ের ব্যবধান অনেক বেড়ে গেছে।

ঐতিহাসিকভাবে বিজেপির হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে দলটির জেতার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না বলে নির্বাচন বিশ্লেষকরা যুক্তি দিয়ে এসেছেন। রাজ্যের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মুসলিম। নীলাঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘অবশ্যই, তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি; যা আমরা আমাদের গবেষণার সময় লক্ষ্য করেছি।’’

বিজেপি নিজেকে হিন্দু ভোটারদের দল হিসেবে তুলে ধরতে কোনও দ্বিধা করেনি। রাজ্যের বিজেপি নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দুদের ভোট একত্রিত হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক মুসলিম ভোটারও এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান না আসা পর্যন্ত এই দাবি যাচাই করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের এই পরিসংখ্যান জানা যেতে পারে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি সেই সমস্ত হিন্দু সনাতনীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই; যারা বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি মমতার তৃণমূলকে ‘‘মুসলিম-তোষণকারী দল’’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গের এই জয় গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। ১৯৫১ সালে বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখাপাধ্যায়। তিনি এই রাজ্যেরই বাসিন্দা ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

• নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে বিতর্ক
ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সংশোধন আনে। ইসিআই দেশটির এক ডজনেরও বেশি রাজ্যে ভোটার তালিকায় এই সংশোধনী এনেছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ৭.৬ কোটি ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ৯০ লাখেরও বেশি মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। যার ফলে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলেন ওই ভোটাররা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে অনুপস্থিত অথবা মৃত ঘোষণা করা হয়। আর বাকি ৩০ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারেননি। কারণ নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাদের মামলার শুনানি করতে পারেনি।

মমতার তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকা সংশোধনের অসঙ্গতি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মোদির বিজেপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিমদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় ‘‘অস্পষ্ট, তড়িঘড়ি ও অসাংবিধানিক’’ সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন মমতা। কিন্তু লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার পুনর্বহাল না করলেও নির্বাচন কমিশনকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের একটি তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের নীলঞ্জন সরকার বলেন, যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভোটার তালিকায় আমার নাম থাকা উচিত কি না—এটিই প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতি আর স্বাভাবিক ছন্দে থাকে না। ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে যে মাত্রার মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের বাইরের মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন।

নরেন্দ্র মোদির সরকার এই নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে; যা যেকোনও রাজ্যের নির্বাচনে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রাজনৈতিক সহিংসতার ভয় ছাড়াই নির্বাচনী কর্মকর্তারা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে বলেছে, এই বাহিনী ভোটারদের ভয় দেখাতে অথবা প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাহুল ভার্মা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি বিজেপির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারে। যারা দোদুল্যমান ভোটার ছিলেন কিংবা তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক ক্ষমতার ভয়ে থাকতেন, তারা হয়তো এর ফলে প্রভাবিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘ভারতের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আস্থার সম্পর্ক যে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।’’

তবে আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে নীলাঞ্জন সরকার ও রাহুল ভার্মা—উভয় বিশ্লেষকই একমত পোষণ করে বলেছেন, কেবল ভোটার তালিকা সংশোধনই বিজেপির এই বিশাল জয়ের একমাত্র কারণ হতে পারে না। এর পেছনে সরকার-বিরোধী মনোভাব এবং ধর্মীয় মেরুকরণের মতো আরও বেশ কিছু বিষয় কাজ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত সহজে হাল ছাড়বেন না। ভোটগণনা চলাকালীন নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় মমতা তার দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, শেষ ব্যালট গণনা না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনও কর্মী কিংবা নেতা ভোটগণনা কেন্দ্র ছেড়ে না যান।

তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে সব জায়গায় দমন করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গায়ের জোরে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের অফিস ভাঙচুর করে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আমি আপনাদের সাথে আছি। ভয় পাবেন না। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করব। নীলঞ্জন সরকার বলেন, মমতার এই হুঁশিয়ারি নিছক কথার কথা নয়। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখতে যাচ্ছি।

• আল জাজিরা থেকে অনুদিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                                    Themes Create by BDITWork