শীতকালটা এলেই আমার,
আজব কথা মনে পড়ে।
গোসল ফাঁকি দিতে ভাইয়া,
কী যে কাণ্ড করে!
বলছি আমি ভাইয়ার কথা,
তাহার মতো যারা,
গোসল নামের ‘বিপদ’ দেখে
হতেন দিশেহারা।
হাসতাম মোরা সবাই মিলে,
করতাম ঠাট্টা-ঠাট্টি।
মা ডাকিলে লুকিয়ে বলত,
“যাব না এক কাঠি!”
শীতের ভয়ে করবে না সে,
কোনোমতেই গোসল।
আজ না কাল—এমনি করে,
পার করে দেয় কাল।
গ্রীষ্মকালে আমায় বলত,
করে দশবার গোসল।
“শীতের জমা করছি আমি
এখনই সব উশুল!”
বলতেন তিনি মন্দ না তো,
এটাই তাহার যুক্তি।
এভাবেই সে শীতের সাথে,
করত আজব চুক্তি।
আজ মনে পড়ে কত দিন,
মা দিতেন জল ছিটিয়ে।
শীতের কাঁপুনি আড়াল করতে,
পালাতেন গা মুছিয়ে।
মায়ের চোখে ধরা পড়ত,
সব ফাঁকির ওই হিসাব।
হাসি-রাগে মিশে যেত,
মমতাময় জবাব।
ভাইয়া তখন দাঁড়িয়ে থাকত
মুখে দুষ্টু হাসি,
মা বলতেন—“আজ না করলে,
কালও একই ফাঁসি!”
সেই দিনগুলো আজ কেবলই
স্মৃতির পাতায় ভাসে,
শীতের গোসল, মায়ের ডাক,
আঁকড়ে ধরে পাশে।