পারভেজ হাসান সায়েম বেরোবি প্রতিনিধি:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (১০ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী জিতু রায় প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি প্রেমিকা স্বপ্নার উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ আবেগঘন চিঠি লিখে যান, যেখানে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা, প্রতারণা ও মানসিক দুঃখবেদনার কথা তুলে ধরেছেন।
মৃত্যুর কারণ দর্শানো এই চিঠির শুরুতে স্বপ্নার উদ্দেশ্যে জিতু লিখেছেন, “আমার হাতের শেষ চিঠি তোমার জন্য স্বপ্না। তোমাকে কতটা ভালোবাসি, এই চিঠিই তার প্রমাণ।” তিনি লিখেন, ২০১৯ সালে কাকতালীয়ভাবে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন দেখা না হলেও ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল রংপুরে তাদের সাক্ষাৎ হয়। এরপর স্বপ্না প্রেমের প্রস্তাব দিলে স্বপ্নাকে ভালো লাগায় জিতুও রাজি হয়ে যান।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, চার বছরের সম্পর্কের নানা স্মৃতি চিকলি ওয়াটার পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, ঘাঘট সেনা পার্ক, নীলসাগর, জমিদারবাড়ি, বেগম রোকেয়ার বাড়ি, ভিন্নজগৎ, দেবীগঞ্জের ডিমি পার্ক ও পঞ্চগড়ের হিমালয় পার্কে কাটানো সময় তার মনে গেঁথে আছে। বিশেষ করে নীলসাগর ও ঘাঘটের স্মৃতিকে তিনি ভোলার অযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু সম্পর্কের শেষটা হয়েছে ভিন্নভাবে। চিঠিতে জিতু অভিযোগ করেন, স্বপ্না অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপনে বিয়ে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “তুমি আমাকে ছাড়া অনেক সুখে আছো। আমি তোমাকে ছেড়ে যাইনি, তুমি গেছো। তোমার সাথে অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, যা তুমি কখনো অস্বীকার করতে পারবে না। অথচ আমাকে ফেলে অন্য কারো সাথে বিয়ে করে নিলে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “তবু বাবা, মা আর ছোট বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে মানসিক যন্ত্রণা তত বাড়ছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম তোমার জন্য আত্মহত্যা করবো। আমি জানি আত্মহত্যা মহাপাপ, ঈশ্বর আমাকে মাপ করবেন না। কিন্তু এই যন্ত্রণা নিয়ে আর বাঁচা সম্ভব নয়।”
চিঠির শেষ অংশে জিতু তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “বাবা, মা এবং বোন আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমি আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না, উল্টো কষ্ট বাড়িয়ে দিয়ে গেলাম।” আর স্বপ্নাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “তুমি সুখে থেকো। আমার মৃত্যুর খবর শুনে তুমি হয়তো খুশি হবে। মৃত্যুর পরেও তোমাকে ভালোবেসে যাবো।”
১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে লেখা এই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও স্বজনরা জিতুর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন।