নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং আরও প্রায় ৩৪ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ শোক প্রকাশ করেন। তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ৩৪ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। এই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।” নেতৃবৃন্দ নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে যাতে দ্রুততম সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া যায়। একইসাথে দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান। দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এই ঘটনার পেছনে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বহীনতা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।” পরিশেষে নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করতে ফেরিঘাটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে বুকফাটা আর্তনাদ করতে না হয়। আল্লাহ তায়ালা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই কঠিন পরিস্থিতি সইবার শক্তি দান করুন।