জাহিদ হাসান, (রাজারহাট) কুড়িগ্রাম: লালমনিরহাট সদর ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সিন্দুরমতি দিঘির পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মেলা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় উৎসব ও লোকজ মেলায় হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নামে।
হিন্দু ধর্মীয় তিথি অনুযায়ী, ভোর রাত ৪টা ৩০ মিনিটে স্নানের লগ্ন শুরু হয়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা সিন্দুরমতি দিঘির পবিত্র জলে স্নান সেরে দেশ ও দশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। স্নান শেষে ভক্তরা পূজা-অর্চনা ও প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করেন।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি তার বক্তব্যে মেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই মেলা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। মেলা প্রাঙ্গণে জুয়া, পুতুল নাচ বা সার্কাসের নামে কোনো প্রকার অশ্লীলতা বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, মাদকমুক্ত পরিবেশে মেলা আয়োজনে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই মেলাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. এইচ এম রকিবুর হায়দার, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনিতা দাস, লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মতিন এবং রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনার রশিদ। এছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রসাধনী, পূজার সামগ্রী, মাটির আসবাবপত্র ও মিষ্টান্নর শত শত দোকান বসেছে। শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও মোটরসাইকেল খেলা ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
নিরাপত্তার বিষয়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজারহাট ও লালমনিরহাট সদর—উভয় থানার পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় মন্ত্রী মহোদয় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।