মাহফুজ রাজা,স্টাফ রিপোর্টার: হাসপাতালের বিছানা কিম্বা ফ্লোরে তিল ধারণের ঠাই নেই, রোগিতে কানায় কানায় পূর্ণ,সকাল থেকেই রোগীদের লম্বা লাইন লেগে থাকে বহির্বিভাগের সামনে।হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টাই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সেবার মান বাড়ায় প্রতিদিন ভিড় করছে বিপুলসংখ্যক রোগী। ফলে হাসপাতালটিতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।তবে পর্যাপ্ত ডাক্তারের অভাবে সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছেননা বলে স্বজনদের অনেকের ক্ষোভ।
অনুসন্ধানে জানা যায়,যেখানে ২৮ জন ডাক্তার সেবা দেবার কথা কিন্তু বর্তমানে সেখানে সেবা দিচ্ছেন ২ জন ডাক্তার।কর্মঘন্টার বাহিরেও সময় দিয়ে সামলাতে হচ্ছে রোগিদের।
আরো একাধিক ডাক্তার এ হাসপাতালে পদায়ন থাকলেও ডেপুটেশন এবং প্রেষনে কর্মরত আছেন অন্যত্র।এ ছাড়াও এক্সরে টেকনেশিয়ান নেই ১৫ বছর যাবদ, টেকনেশিয়ানের কাজটাও বর্তমানে ডাক্তারদেরই করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন অন্তত ডেপুটেশনে থাকা ডাক্তারদের ফেরত পেলে সঠিক সেবামান আরও বহুগুণ তরান্বিত হতো।
বলছি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কথা। ভৌগোলিক দিক দিয়ে এ হাসপাতালটি ময়মনসিংহের পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়ন, নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গিরপুর ইউনিয়ন ও জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া এ তিন অঞ্চল ছাড়াও হোসেনপুর উপজেলার প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা, যদিওবা দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ডাক্তার সংকট তথাপি এখানে কয়েক অঞ্চলের রোগিরা আসে বলে ডাক্তার সংকট মোকাবেলা করা অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকোর ব্যবস্থাপনায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও রোগীরা এখন আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকা স্বত্বেও চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগসহ সার্জারিও হচ্ছে এই হাসপাতালে।
উন্নত চিকিৎসা সেবা, সবধরনের প্যাথলজি টেস্ট ও বিনামূল্যে ওষুধ সুবিধা পাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দালালমুক্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবায় খুশি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
বাড়তি চাপ থাকলেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় তা স্বাভাবিক থাকে। রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা, চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও উন্নত খাবার পরিবেশনে দ্রুতই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। আন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীরা ভালো চিকিৎসা পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে। তাদের মুখে শুধু হাসপাতাল ও স্টাফদের প্রশংসার গল্প।
এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি উন্নত মানের অপারেশন থিয়েটার, ল্যাব, পোষ্ট ও ফ্রি অপারেটিব ওয়ার্ড। এ হাসপাতালে প্রায় সব ধরনের অপারেশন, টেস্ট ও ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া হাসপাতালে একটি আলাদা লেবার ওয়ার্ড রয়েছে। যেখানে রোগীদের সার্বিক পরামর্শ ও নিরাপদে নরমাল ডেলিভারির সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের এই উদ্যোগের ফলে উপজেলায় সিজারের সংখ্যা কমে হাসপাতালে নিরাপদে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। এখন প্রতিমাসে একশরও বেশি নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে এই হাসপাতালে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং সিসি ক্যামেরায় সার্বিক তদারকির মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে দিয়েছেন এই ডা. তানভীর হাসান জিকো। তিনি যোগদানের পর থেকে হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ফুল-ফলের বাগান, অফিস স্টাফ, রোগী ও স্বজনদের অবসর সময় কাটানোর দর্শনীয় স্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নানামুখী সৃজনশীল কাজ করেছেন। তাছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত এই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে কর্মব্যস্ত সময় পার করতেও দেখা গেছে।
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকু জানান, চিকিৎসক সংকটে এখন দুইজন ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে অচিরেই এর একটা সমাধান আসবে বলে আশা করছি, তিনি আরো জানান, উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক থাকতে চায় না। যে জন্য এ সংকট দিন দিন বেড়েই চলছে।
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার গল্প এখন সবার মুখে মুখে, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বদলে যেতে পারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা দৃষ্টান্ত হতে পারে সারাদেশে।