আসন্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সব প্রার্থীর বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করার দাবিতে অনশন শুরু করেছেন ভিপি (সহসভাপতি) পদপ্রার্থী মো. রাব্বি হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে, যেখানে অস্থায়ী জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অবস্থিত, সেখানেই তিনি এই একক অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।
অনশনে বসে রাব্বি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নীতিমালায় প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক বলা হলেও প্রশাসন এখনও তা কার্যকর করেনি। এটা শুধু শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রমাণ নয়—ডোপ টেস্ট জাকসুকে সন্ত্রাস, মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত রাখার একটি মৌলিক শর্ত। আমি চাই নেতৃত্বে আসুক তারা, যারা সুস্থ, নীতিবান ও দায়িত্ববান।”
তিনি আরও বলেন, “অন্য কোনো পথ না দেখে আমি আজ ২৭ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে অনশন শুরু করেছি। আমার একটাই দাবি—সব প্রার্থীর বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে হবে এবং তা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মান রক্ষার লড়াই। আমি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই—সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে একসঙ্গে দাঁড়ান।”
জাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা কেবল নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্বে থাকি। এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের।”
বর্তমান নীতিমালায় বলা আছে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলে তার ডোপ টেস্ট করা যেতে পারে। তবে রাব্বির দাবি—সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব বা প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতি না তৈরি হয়।
রাব্বি হোসেনের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ তার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও উপাচার্যের দিক থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জাকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাদকমুক্ততা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।