বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জামালপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির ২০২৫’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আত্মগঠনের অঙ্গীকার, আদর্শ নেতৃত্ব নির্মাণ ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীবাহিনীকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ শিবিরে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাথীরা অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার সকালে জামালপুর শহরের এক মনোরম পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শিবিরের উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক নেতা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও আদর্শবান নেতৃত্ব ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইসলামী সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি সাথীকে হতে হবে চারিত্রিক দৃঢ়তা, চিন্তার স্বচ্ছতা ও আমলের পরিশুদ্ধতায় উত্তীর্ণ।”
শিক্ষাশিবিরে একাধিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন,
“বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে সঠিক পথের দিশা দিতে ইসলামী ছাত্রশিবির যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। এই শিবিরের মাধ্যমে সাথীরা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে এবং জাতীয় নেতৃত্বে প্রস্তুত হতে পারবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে ছাত্রসমাজকে প্রস্তুত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন জ্ঞান, নেতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির সমন্বয়।”
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে ছিল বৈচিত্র্য
শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছিল—
কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা
বিষয়ভিত্তিক লেকচার ও ওয়ার্কশপ
শারীরিক প্রশিক্ষণ ও দাওয়াহ কৌশল বিষয়ক সেশন
রাতভর তাহাজ্জুদ ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ ইবাদত
এছাড়াও, ‘শিক্ষিত ও চরিত্রবান নেতৃত্বই আগামী বাংলাদেশের গ্যারান্টি’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি। তিনি বলেন,
“এই শিবির শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম নয়, বরং এটি একটি জীবন গঠনের সূচনা। আমরা চাই, প্রতিটি সাথী তার জ্ঞান, চিন্তা ও কর্মে একজন আদর্শ মুসলিম ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।”
তিনি শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের আগামী দিনগুলোতে সংগঠনের কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।