বান্দরবান জেলা সংবাদদাতা সাইফুল্লাহ ছিদ্দিকী: আসন্ন ত্রোয়াদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বশেষ সংসদীয় আসন (৩০০ নং আসন) বান্দরবানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জনসংহতি সমিতি প্রতিদ্বান্ধিতা করবে বলে জানা গেছে। ইতি মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী ক্লীন ইমেজের সজ্জন ব্যক্তি বান্দরবান জেলা আইনজীবি সমিতির একাধিক বার নির্বাচিত সভাপতি জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবুল কালাম দলীয় এবং দলমত নির্বিশেষে সকল পর্যায়ের নাগরিকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন।।
জেলা বি এন পির আহবায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মাঠে ছিলেন কয়েকবার। তিনি একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনের ফলে কয়েক মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ায় নির্ধারিত সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি। তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ এর নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে শুনামের সাথে দায়িত্বপালন করেছেন। এছাড়া বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবে বলে দলীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা বি এন পির সেক্রেটারী জাবেদ রেজাকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে অনেকে দেখতে চায় বলে লোকমুখে শুনা যায়। তিনি বান্দরবান পৌরসভার সবেক মেয়র ছিলেন। দলের নীতি নির্ধারনী মহল যাকে মনোনয়ন দেন তিনিই নির্বাচন করবেন এটাই ধরে নেয়া যায়।
জেলা বি এন পির আহবায়ক সাচিং প্রু জেরী বলেন দলীয় হাই কমান্ড থেকে এম পি হিসাবে মনোনয়ন যাকে দেবেন তিনিই নির্বাচন করবেন। তবে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন আমরা দল গোচানো সহ তৃনমূল পর্যায়ে নির্বাচন মুখী কাজ শুরু করেছি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি কে এস মং দলীয় প্রার্থী হিসাবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে শুনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম জেলার ৭টি উপজেলার প্রতিটি জনপদে গনসংযোগ শুরু করেছেন। বিভিন্ন সভাসমাবেশে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি দৃশ্যমান। বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি এই ৭টি উপজেলা এবং ২টি পৌরসভা নিয়ে বান্দরবান সংসদিয় আসন গঠিত। এই বিশাল এলাকা ঘুরে আসা সময় সাপেক্ষ হলেও দলিয় প্রার্থীর পক্ষে তৃনমূল পর্যায়ের প্রতিটি ইউনিট সংগঠনের কর্মীরা গনসংযোগ শুরু করেছেন।।
মুহাম্মদ আবুল কালাম পেশায় একজন আইনজীবি হলেও বর্তমানে তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে পত্যন্ত এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন।
এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম সাংগাঠনিক ভাবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও জেলা পরিষদ সদস্য পদ সহ বান্দরবানের পরিচিত অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি সুপার হিলভিউ প্রাইভেট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান, হিলভিউ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান, বান্দরবান জেলা ইসলাম প্রচার সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান, বান্দরবান মডেল একাডেমী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, বান্দরবান ইসলামী পাঠাগারের প্রধান নির্বাহী, বান্দরবান কেন্দ্রীয় ইসলামী সমাজকল্যান সমিতির সদস্য, বান্দরবান আল ফারুখ ইনষ্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সদস্য, বান্দরবান গোরস্থান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি, বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য, বান্দরবান আর্মী পাড়া আবাসিক সোসাইটির সভাপতি, বান্দরবান ইসলামীয়া মাদ্রাসা শপিং কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সদস্য, বান্দরবান জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাষ্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান, বান্দরবান ফারুখে আজম ট্রাষ্টের জয়েন্ট সেক্রেটারী, বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এমপি প্রার্থী এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, বান্দরবানে বসবারত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ও বিভিন্ন জাতি গোষ্টির জনগনের ন্যার্য্য অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান নানাবিধ সমস্যা সমাধানে তিনি ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, অত্র জনপদে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষের সহ-অবস্থান নিশ্চিত করবেন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোরালো পদক্ষেপ নেবেন। এছাড়া জেলার পহাড়ী-বাঙ্গালী সহ সকল জাতি গোষ্টির মধ্যে সম-অধিকার নিশ্চিত করন সহ পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করবেন।।
বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বর/২৫ ইংরেজী তারিখ পর্যন্ত জেলার ২টি পৌরসভা সহ ৭টি উপজেলার মোট ভোটার ৩লক্ষ ৭হাজার ৯৫৩জন। তৎমধ্যে পুরুষ ১লক্ষ ৫৮হাজার ১৬৭জন এবং মহিলা ১লক্ষ ৪৯হাজার ৭৮৬জন।
উপজেলা ভিত্তিক ভোটার সংখ্যা যথাক্রমে বান্দরবান সদরে পুরুষ ৩৭৭৫৬জন মহিলা ৩৪৪০০জন, রোয়াংছড়ি পুরুষ ১১৪১০জন এবং মহিলা ১১০৭৬জন, রুমায় পুরুষ ১১৯১৮জন এবং মহিলা ১১২৭০জন, থানচি উপজেলায় পুরুষ ৯৭৯২জন এবং মহিলা ৮৯৮৪জন, লামা উপজেলায় পুরুষ ৪৫হাজার ৩৪৯জন এবং মহিলা ৪২হাজার ৪৭১জন, আলীকদম উপজেলায় পুরুষ ১৮হাজার ৩৬জন এবং মহিলা ১৭হাজার ৬৩৯ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পুরুষ ২৩হাজার ৯০৬ জন এবং মহিলা ২৩হাজার ৯৪৬ জন।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে বীর বাহাদুর উ শৈ চিং ৭৮৯৪৭ ভোট পেয়ে এম পি নির্বাচিত হন দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী।
২০১৪ সনে অনুষ্ঠিত ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী বীর বাহাদুর উ শৈ চিং এম পি পেয়েছেন ৬১হাজার ৯৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রসন্ন কান্তি তংচঙ্গা পেয়েছেন ৩৩হাজার ২৯ভোট।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী বীর বাহাদুর উ শৈ চিং ১৪৩৯৬৬ ভোট পেয়ে ১ম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির প্রার্থী সাচিং প্রু ৫৮ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় দংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বীর বাহাদুর উ শৈ চিং পেয়েছেন ১৭২৭০৮ ভোট। ডামী প্রার্থী হিসাবে পরিচিত এ টি এম শহিদুল হক ১০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়ে ছিলেন।
জেলার বর্তমানে মোট ১৮৩টি ভোট কেন্দ্র এবং ৭১৫টি ভোট কক্ষ রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঝুকি পুর্ণ রয়েছে।।