পারভেজ হাসান সায়েম:
নির্বাচনের আগে প্রতিবারই মিঠাপুকুরের গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যেন জনপ্রতিনিধিদের দৈনন্দিন নির্বাচন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। নির্বাচন শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি যেন হারিয়ে যায় ক্ষমতার গর্তে। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো বছরের পর বছর অবহেলার শিকার। হালকা বৃষ্টিতেই এসব রাস্তা হয়ে যায় কর্দমাক্ত, সৃষ্টি হয় জনদুর্ভোগ।
জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিদের সবচেয়ে বড় আশ্বাসের নাম গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন। “সড়ক হেয়ারিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, নির্বাচন শেষ হলেই সড়ক উন্নয়ন এর কাজ শুরু হবে” এরূপ প্রতিশ্রুতিতে ভোট আদায় শেষে পরবর্তী নির্বাচনের দেখা মেলে না কোনো জনপ্রতিনিধির।
রাস্তার বেহাল দশা, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি অপসারণ হয় না, রাস্তায় গর্তে জমে থাকে পানি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারা, রোগী পরিবহনে বিলম্ব এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে চরম সমস্যা সব মিলিয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে বর্ষার সময়। এমনকি শুকনো মৌসুমেও গর্ত ও ভাঙা অংশের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে সবসময়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “ভোটের সময় এলেই তারা আমাদের রাস্তা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না।” গ্রামবাসীর দাবি, রাস্তাঘাট সংস্কার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারদের মাধ্যমে করা হয়।
কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা দাবি করেন তারা সড়ক উন্নয়নের কোনো বরাদ্দ পান নি বলে সড়ক উন্নয়ন এর কাজ বাস্তবায়িত হয় না।
গ্রামের সচেতন ব্যক্তিদের মতে, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন শুধু ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও তদারকি নিশ্চিত না হলে আগামী দিনগুলোতেও এই দুর্ভোগ চলতে থাকবে।