বাগাতিপাড়ায় সংঘবদ্ধভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড, অস্ত্র-মাদক কারবার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক নারীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন স্থানীয় মোছাঃ রুনা খাতুন এক নারী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ও ২৯ আগস্ট রাতে উপজেলার মাকুপাড়া এলাকায় একটি ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গোপন বৈঠক করে। বৈঠকে ভারতে পলাতক কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারা দেশে নাশকতার পরিকল্পনা করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। তারা গ্রাম্য নিরক্ষর মানুষের নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট খুলে বিদেশ থেকে অর্থ এনে দেশবিরোধী কার্যক্রমে বিনিয়োগ করছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং আলোচিত অপরাধীদের নাম। তারা হলো: জোসনা সরকার (আওয়ামী লীগ নেত্রী),রেজাউল করিম, কাওসার জামান,এএসএম আল-আফতাব খান সুইট (জাতীয় যুব সংহতি সভাপতি, নাটোর জেলা), মো. আব্দুল্লাহ-আল-অনিক (নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতা), মো. আনোয়ার হোসেন (জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা), মো. সবুজ, মো. নাজিম মন্ডল এবং মো. মিজানুর রহমান ওরফে ‘ফিটিং মিজান’ ( নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও আলোচিত হত্যা মামলার আসামি)।
তবে অভিযুক্ত জোসনা সরকার উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন কথাস্বীকার করলেও, তার বিরুদ্ধে আনিতো সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধোপার বিল এলাকায় ভুক্তভোগী রুনা খাতুন তার স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দৃশ্যের সম্মুখীন হন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তিনটি কার্টনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক বোঝাই করে একটি সাদা গাড়িতে তোলার সময় তাকে দেখে ফেলে। এতে একপর্যায়ে তাকে ধাওয়া করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রুনার বাবার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে জিম্মি করে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। এছাড়া তার স্বামী, যিনি একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী, তার ওপরও প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে যে, অভিযুক্তরা “শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সশস্ত্র আন্দোলনের” পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং স্থানীয়ভাবে ভীতির পরিবেশ তৈরি করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন অটোচালক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারী রয়েছেন।
আভিযোগকারি রুনা খাতুন বলেন, “আমার সন্তানদের নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি নেই।”
তিনি আরও জানান, প্রমাণস্বরূপ ছবিসহ বিভিন্ন দলিলও এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউএনও, ডিসি এবং এসপি নাটোর কর্তৃক সাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ নথিও রয়েছে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান “এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল, প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের পাশাপাশি, রুনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।