হংকংয়ের বিপক্ষে জয়ের পরও বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে জয়ের ধরন নিয়ে হয়েছিল সমালোচনা। রানরেটের দিকে না তাকিয়ে ধীরলয়ে কেন জয়ের পথে এগোলো বাংলাদেশ দল সেই উত্তরে ম্যাচ শেষে তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘দিন শেষে ফলটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি না করতে পারতাম, তাহলে আপনারাই হয়তো কথা বলতেন। আমরা আরেকটু আগে খেলাটা শেষ করতে পারতাম। পরিস্থিতি যা দাবি করেছে, আমরা চেষ্টা করেছি ওভাবে খেলার জন্য।’ এমন জয়ের পর আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। এ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তানজিম সাকিব বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা খেলব।’ সেরা খেলার লক্ষ্য নিয়ে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
হংকংয়ের ছুড়ে দেওয়া ১৪৩ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে বাংলাদেশ খেলেছে ১৭.৪ ওভার পর্যন্ত। লিটন দাস-পারভেজ হোসেন ইমনরা আগ্রাসী মনোভাবে থাকলেও তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ তামিম ছিলেন না ঠিক সেই ছন্দে। তাদের স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০-এর নিচে। এমন শ্লথ ইনিংসের পর বাংলাদেশ দলের ইনটেন্ট নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এর উত্তরে অবশ্য তাওহিদ হৃদয় জানান, সময়ের দাবি মিটিয়ে খেলেছে দল। রানরেট এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও জয় নিশ্চিত করাটাই লক্ষ্য ছিল বলে জানান। হংকংয়ের বিপক্ষে এমন ম্যাচ জয়ের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশ কী করবে সেটাই জেগেছে প্রশ্ন?
সেই উত্তরে অবশ্য তানজিম সাকিবের ছিল সোজাসাপ্টা উত্তর। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে জেতার জন্যই মাঠে নামব। দ্বৈরথ-আমার কাছে এগুলো কোনো কিছু মুখ্য বিষয় না। ম্যাচ জেতা গুরুত্বপূর্ণ।’ সাম্প্রতিক সময়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে এগিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা ভালো কাজে লাগবে জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘শিয়া কাপের আগে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রচুর ম্যাচ খেলেছি। আমরা তো পূর্ণাঙ্গ একটা সিরিজ খেলেছি- টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ছিল। আমরা তাদের সব খেলোয়াড়কেই ভালো জানি। আমরা ঠিকঠাক পরিকল্পনা করব। অবশ্যই, তাদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমরা তাদের আটকানোর চেষ্টা করব।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগবে এমনটাই বিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করতে চেয়ে তার ভাষ্য, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা সিরিজ জিতেছি, এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে। আমার জেতার জন্যই মাঠে নামব। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলব, ইনশাআল্লাহ।’ আবুধাবিতে বাংলাদেশ আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামার অপেক্ষায় থাকলেও লঙ্কানরা খেলবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। ফলে বাংলাদেশের মতো তারাও জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করতে মরিয়া হয়ে থাকবে।
লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে সব সময়ই থাকে বাড়তি উন্মাদনা। দর্শকদের ওই বাড়তি উন্মাদনা নিয়ে সাকিব নিজে খুব বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ। বরং, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেরাটা খেলতে মরিয়া তিনি। তার কথায়, ‘দেখুন, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমরা যখন মাঠে নামি, তখন প্রক্রিয়াটা মেনে চলার চেষ্টা করি। সমর্থকদের পাগলামি থাকবে, তারা আবেগপ্রবণ হবে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমি যদি আবেগপ্রবণ হই, তাহলে তো হবে না।’
নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লঙ্কানদের বিপক্ষে কেমন করে সেটাই দেখার অপেক্ষা।