এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার পরিচিতদের বিরুদ্ধে দেশের ১০টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিমাণ দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বার্ষিক বাজেটের এক-চতুর্থাংশের সমান। এই কেলেঙ্কারিটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে bisher সবচেয়ে বড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঋণের ধরন ও পরিমাণের বিশ্লেষণ
এস আলম গ্রুপের নামে নেওয়া ঋণ: প্রায় ৯২,৬৭৭ কোটি টাকা।
বেনামী প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ঋণ: প্রায় ৯৭,৪৮৬ কোটি টাকা।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান বা পরোক্ষ লাভ: ৩৪,৮৬৭ কোটি টাকা হতে পারে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
এই তথ্য মিলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট–এর (FIU) তদন্তে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদনের সময় নামমাত্র জামানত বা প্রভাব বিস্তার করে নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কোন ব্যাংকগুলো প্রভাবিত ও কতটাকা লোপাট হয়েছে
নিচে উল্লেখ করা হলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে লোপাটকৃত অর্থের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোপাটকৃত অর্থ (কোটি টাকা)
ইসলামী ব্যাংক ১,০৫,৪৮৩
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৪৫,৬৩৬
ইউনিয়ন ব্যাংক ২৩,৫২৬
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ১৩,২৫০
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১২,৮৭৬
জনতা ব্যাংক ১২,৩৩২
এক্সিম ব্যাংক ৬,৩৪৬
ন্যাশনাল ব্যাংক ২,৩৪৬
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৫০
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৩৭৬
অ্যাভিভা ফাইন্যান্স (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) ১,৮৫৭
ব্যাঙ্কিং সঙ্কট ও গবেষকদের উদ্বেগ
এস আলমের এই কেলেঙ্কারি ব্যাংক খাতের অস্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা বিপন্ন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তঃব্যাংক লিকুইডিটি সংকট, সাধারণ আমানতকারীদের প্রত্যাহারে বিলম্ব— এসব ব্যাংকগুলোকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে। ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন এবং অন্যান্য ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানেও এই কেলেঙ্কারির প্রভাব মারাত্মক।
ব্যাংকগুলোকে একীকরণ– দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাঙ্ককে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক অডিট– বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক “৭০,০০০ কোটি টাকার” ক্ষতির জন্য EY, Deloitte, KPMG–সহ Big Four অডিট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলোর asset quality review পরিবেশনে, যেখানে এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু
দুদক ও আইনি পদক্ষেপ– বিভিন্ন আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে; এস আলম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা ও সম্পদের নিষিদ্ধাদেশ জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাংক খাতের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন:
স্বচ্ছ অপরাধমূলক বিচার ও শাস্তি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ম-নীতি পুনর্বাসন, জননিরাপত্তা ও আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দ্রুততম সময়ে সঙ্কট-ব্যাংকগুলোর পুনঃসংস্কারণ।
আইনি ও প্রশাসনিক দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট এড়ানো কঠিন।