বাবুল রহমান রবিন গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোজাম্মেল হক।এরআগে গতকাল রাতে এই অভিযোগ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের বারেক হাজীর সাথে তার ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এ সংক্রান্ত মামলাও চলছে আদালতে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সমোঝোতার জন্য বসার কথা ছিলো। এ সবের মধ্যে
সোমবার দুপুরের দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে যান বারেক মন্ডল ও তার জমাইসহ আরো দুই একজন। পরে তার প্রতিপক্ষরাও ওই কার্যালয়ে যায়। এসময় তাদের মধ্যে একই ইস্যু নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এদিকে, একই ঘটনায় ৮ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় রাজাহার ইউনিয়নে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম।
অভিযুক্তরা হলেন, লেবু মিয়া (৪২), বেলাল মিয়া (৫০) মোঃ আব্দুল লতিফ (৫৫), মোঃ রুবেল মিয়া (৩৫), ৪। মোঃ ফারুক (৩০) মোঃ রানা মিয়া (৩২), পিতা মোঃ মোজাম্মেল খোকা, ৬। মোঃ তামিম মিয়া (২৩), মোঃ মোজাম্মেল হক খোকা (৫৯),মোঃ হাসিব (২৩)। অভিযোগে অভিযুক্তদের আওয়ামী সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে , গত ৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজাহার ইউনিয়নের বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল লোক দলবদ্ধ হয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে কয়েকজনকে আহত করে এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর ও পদদলিত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বৈরাগীর হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। বিষয়টি এমপি মহোদয় অবগত রয়েছেন। তিনি দেখবেন বলেও এমপির বরাদে জানান ওসি।
বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্চার্জ লাইছুর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ থানায় হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে, ঘটনাটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে। এবং অভিযোগ পত্রে যে নামগুলো পেয়েছি প্রাথমিকভাবে শুধু লেবু যুবলীগের সাথে জড়িত অন্যরা বিএনপির কর্মী সমর্থক।