পাথরকাণ্ডে সিলেটের ডিসি বদলি, দায়িত্ব নিলেন আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম
সিলেটের বহুল আলোচিত সাদা পাথর লুট কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মো: মাহবুব মুরাদকে বদলি করে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন র্যাবের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মো: সারওয়ার আলম।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা সোমবার (১৮ আগস্ট) এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে মো: সারওয়ার আলমকে সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে বদলি ও পদায়ন করা হলো। এই আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের পেশাগত জীবন, মো: সারওয়ার আলম গত বছর ১৩ আগস্ট উপ-সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পদোন্নতির পর থেকে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নানা বিতর্কিত মামলায় তার কার্যক্রম, যার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসেন।
সিলেটের ডিসি বদলির পেছনের কারণ, বর্তমান ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে বদলির পেছনে মূলত সিলেটের পর্যটন এলাকা ও নদী থেকে অবৈধ সাদা পাথর ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং ও লোভাছড়া এলাকায় পাথর লুটের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হয়।
গত এক সপ্তাহ ধরে এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ায় সরকার অবশেষে ডিসি মাহবুব মুরাদকে সরিয়ে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে সারওয়ার আলমকে সিলেটের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের পাথর লুটের সংকট ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, সিলেটের সাদা পাথর লুট কাণ্ড দেশজুড়ে আলোচিত বিষয়। এই প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়ে ওঠে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন সময়ে অভিযানের নামে কার্যক্রম হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এখনো অর্জিত হয়নি। অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি, নদীর ভাঙন, পর্যটন ক্ষেত্রে সংকটসহ স্থানীয় অর্থনীতির পতন ঘটে চলেছে।
এমন সংকটময় সময়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে মো: সারওয়ার আলমের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় জনমনে আশা জাগেছে। তার দক্ষতা, কঠোরতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এই সমস্যা মোকাবেলায় কতটা কার্যকর হবে তা সময়ের অপেক্ষা।
ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি, সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি গভীর প্রভাব ফেলেছে। পাথর কাণ্ড শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোপরি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।
নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মো: সারওয়ার আলমের ওপর জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে— তিনি সিলেটের সাদা পাথরের লুট বন্ধ করতে সক্ষম হবেন এবং পরিবেশ, পর্যটন ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এখন মোড় নিয়েছে সিলেটের এই সংকট মোকাবেলায়। আগামী সময়েই স্পষ্ট হবে এই পরিবর্তন কতটুকু ফলপ্রসূ হয় এবং সিলেটের পরিবেশ ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে কতটুকু অবদান রাখতে পারে নতুন জেলা প্রশাসক।