বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল রবিবার (৩১ আগস্ট)। এদিন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার অসুস্থ থাকায় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈঠক বাতিল হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হওয়া এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সব সময়ই বলেছি, নীতি সহায়তা পেলে আমরা স্বাধীনভাবেই ব্যাংক পরিচালনা করতে পারব।”
এদিকে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় দরও কমছে।
অর্থনীতিবিদরা একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ব্যাংকগুলোর মূল সমস্যা সমাধান না করে শুধু একীভূত করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আসল সমস্যা খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব। এগুলো সমাধান না করলে একীভূতকরণ কার্যকর হবে না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গভর্নরের অসুস্থতার কারণে রবিবারের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। আজ (সোমবার) নতুন তারিখ জানানো হবে।
একীভূতকরণের আলোচনায় পাঁচ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।