বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় প্রথম সমাবেশ ১৮ সেপ্টেম্বর, এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আজ দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকার পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়।
ডা. তাহের আরও বলেন, সংবিধানের ত্রুটি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত অভাবের সুযোগে কর্তৃত্ববাদী শাসন, ভিন্নমত দমন, দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে দেশের কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনার পর ৮৪টি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে একমত হলেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই জনদাবি বাস্তবায়নের জন্য গণআন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।
জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘোষিত ৫ দফা দাবি হলো:
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।
জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ডা. তাহের জানান, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, ১৯ সেপ্টেম্বর দেশের বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা/উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।