নিজস্ব প্রতিবেদন: পারস্পরিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকলেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে রাশিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, “আমরা বাস্তববাদী। গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি এই মুহূর্তে সেরা। আলোচনার টেবিলে এর বিকল্প কিছু নেই।”
তবে তিনি এটিকে ‘আদর্শ পরিকল্পনা নয়’ বলে উল্লেখ করেন। ল্যাভরভ বলেন, “এই যুদ্ধের মূল প্রশ্ন হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। ট্রাম্পের প্রস্তাবে সে বিষয়ে গুরুত্ব কম দেওয়া হয়েছে; বরং ফোকাস করা হয়েছে শুধু গাজার ওপর।”
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গাজায় রক্তপাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসরায়েল, হামাস এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার) যদি রাশিয়ার সহযোগিতা চায়, তবে মস্কো সে বিষয়ে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ট্রাম্প জানান, তাঁর পরিকল্পনার কপি ইতিমধ্যে ইসরায়েল, হামাস, মিসর ও কাতারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং হামাস ছাড়া অন্য সবাই এতে সম্মতি জানিয়েছে।
পরে ৩ অক্টোবর হামাসও সম্মতি দিলে, ৪ অক্টোবর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানান। এরপর ৬ অক্টোবর মিসরের শারম আল শেখে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, হামাস, মিসর ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়।
দুই দিনের আলোচনা শেষে ইসরায়েল ও হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক বাস্তবায়নে সম্মত হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে। ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের (টু-স্টেট সলিউশন) দৃঢ় সমর্থক। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করার পর যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল রাশিয়া। একই বছরের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রথমবারের মতো তোলে দেশটি।