রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সড়ক অবরোধ করলে এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বুধবার দুপুরে আইডিইবি (ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ) ভবন থেকে একটি মিছিল যাত্রা শুরু করে যমুনা ভবন অভিমুখে। মগবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের মিছিলে বাধা দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যমুনা ভবনে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের ৭ দফা দাবি নিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময়, আন্দোলনকারী অপর অংশ কাকরাইল মোড় অবরোধ করে রাখে। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ১২ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু পুলিশের এই আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি পেশ করছিলাম। কিন্তু আমাদের ছাত্র-শিক্ষক ও পেশাজীবীদের ওপর লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার করে সরকার অযৌক্তিক দমন নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে, নইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
আন্দোলনের পেছনে দাবিগুলো:
যদিও ৭ দফা দাবির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে সাধারণত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উঠে আসে, তার মধ্যে রয়েছে:
চাকরির ক্ষেত্রের বৈষম্য দূরীকরণ
চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রির স্বীকৃতি
উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ বৃদ্ধির দাবি
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিশেষ পদ সৃষ্টি
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি
সমতাভিত্তিক বেতন কাঠামো
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা পেশাজীবীদের পদোন্নতির সুযোগ
ঘটনার পর থেকে রাজধানীর কাকরাইল ও মগবাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের টহল চলছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সংলাপ বা আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঘটনাটি ঘিরে চলমান উত্তেজনার দিকে নজর রাখছে সারা দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত লাখো শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী।