বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর বিভাজন একটি ভ্রান্ত ধারণা। তাঁর মতে, মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সব ধর্মই শান্তি ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব ধর্মাবলম্বীর কল্যাণে কাজ করছে। যদি কেউ জামায়াতের পরিচয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন বা হয়রানি করে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক নয়, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি জানান, গত ১৭ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলাকে সম্প্রীতির মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান জামায়াত নেতা।
সভায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শ্রী দীপংকর চক্রবর্তী, শ্যামল সুর, রায় মোহন সূত্রধর, বলরাম কর্মকার, বসু দেবনাথ, লিটন দত্ত, অরূপ ভৌমিক, আকাশ কর্মকার ও শংকর দাস। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য দেন ভোবন মাস্টার। এছাড়া বক্তব্য দেন স্বপন ঘোষ, সঞ্জীব দাস, নারায়ণ চন্দ্র দাস, বিমল চন্দ্র দাস, কমলেশ মণ্ডল, অধ্যাপক হারাধন দে এবং স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা।
নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির দাবি
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, হাজার হাজার ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতি ছাড়া দেশের জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না।
শুক্রবার বিকেলে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। তবে কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়েছি—পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।”
সমাবেশ দুটি যথাক্রমে ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মাস্টার রফিকুল ইসলাম এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. মকিত শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা।