আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দ্বীপচাঁদপুর আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সফল মৎস্যচাষি মো. আব্দুল জলিল। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বিলসৌঁতি বিল, কচুয়া বিল ও গজমত খালি উন্মুক্ত জলাশয়ে ২ মেট্রিক টন (প্রায় ৫০ মণ) মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন।
শুক্রবার সকাল ৯টায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে উৎপাদিত এসব মাছের পোনা জলাশয়গুলোতে অবমুক্ত করা হয়।
জানা গেছে, আব্দুল জলিলের নিজস্ব পুকুরে বিপুল পরিমাণ মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা উৎপাদিত হয়। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি না করে এলাকার মানুষের কল্যাণ এবং উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি এসব পোনা অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল জলিল বলেন, “শিক্ষকতার পাশাপাশি মৎস্য চাষ আমার একটি প্রিয় শখ। আল্লাহর রহমতে এবার আমার পুকুরে প্রচুর পরিমাণে তেলাপিয়ার পোনা উৎপাদিত হয়েছে। চাইলে এগুলো বিক্রি করে আর্থিক লাভ করতে পারতাম। কিন্তু সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এলাকার মানুষের উপকারের কথা বিবেচনা করে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করেছি। আশা করি, মাছগুলো বড় হলে স্থানীয় দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ সহজেই মাছ সংগ্রহ করে তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।”
বিশিষ্ট পুকুর ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আসাদুজ্জামান টফি বলেন, “বর্তমান বাজারে ২ মেট্রিক টন পোনার মূল্য অনেক। এত বড় আর্থিক লাভের সুযোগ ত্যাগ করে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করা সত্যিই বিরল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে এলাকার মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাজ্জাস হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ সময় পোনা অবমুক্ত করায় বিলের মৎস্যসম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে এসব মাছ যাতে অবৈধ কারেন্ট জাল বা চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে নিধন না করা হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে একযোগে নজরদারি বাড়াতে হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, “উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যক্তিগত এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পোনাগুলো সংরক্ষণে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, একজন শিক্ষকের নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগের ফলে বিলসৌঁতি বিল, কচুয়া বিল ও গজমত খালি জলাশয়কেন্দ্রিক কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সফল মৎস্যচাষিরা এভাবে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তে এগিয়ে এলে দেশের মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।