মেহেদী হাসান মুরাদ গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনা। নদীভাঙন রোধ, শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানির নিশ্চয়তা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নৌ-যোগাযোগের উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনাটি বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের মনে প্রশ্ন—প্রকল্পটি আদৌ কবে বাস্তবায়নের পথে এগোবে?
তিস্তা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। প্রতিবছর বর্ষায় নদীভাঙনে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সেচ সংকটে পড়েন কৃষকরা। এতে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও অর্থায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এটি কবে একনেকে উঠবে বা অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।
তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে নানা ঘোষণা এলেও বাস্তব কাজের অগ্রগতি নেই। নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পুনর্বাসনের অপেক্ষায় থাকলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। কৃষকদের আশা, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে অর্থায়ন, পরিবেশগত মূল্যায়ন, কারিগরি পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনসহ বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পরই প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
তিস্তা অববাহিকার মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তাদের বিশ্বাস, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘদিনের এই প্রতীক্ষিত প্রকল্প ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তিস্তা মহাপরিকল্পনা কবে একনেকের অনুমোদন পেয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোবে? উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের দৃষ্টি এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।