কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে তারা হাতে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি নিয়ে নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ড থেকে দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নাগেশ্বরী উপজেলার দুই জুলাই শহীদ রব্বানী ও রাশেদুলের পিতাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা। প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কাশেম সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম সরকার, তানজিমুল ইসলাম কিরণ, মো. আনিসুর রহমান, মো. মোজাম্মেল হক (দুদু), মো. নাজির হোসেন, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মোমেন ও এ কে এম আশরাফ হোসেন (আপেল)। এছাড়া যুবদলের ফরহাদ হোসেন, এস এম ফারুক, ছাত্রদলের আহ্বায়ক টুকু চৌধুরী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকাশসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম রসুল রাজা বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। শহীদদের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
প্রধান অতিথি আবুল কাশেম সরকার বলেন, “জুলাইয়ের শহীদরা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমরা তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”
বিশেষ অতিথি আলহাজ মোখলেছুর রহমান বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগকে বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তাদের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাবে।”
বক্তারা বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।