আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বটতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনে প্যানেলের ভিপি (সহসভাপতি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান লিখিতভাবে ইশতেহার পাঠ করেন। এতে শিক্ষার্থীকল্যাণ, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল সুবিধা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ মোট ১০টি মূল দফা তুলে ধরা হয়।
ছাত্রদলের ১০ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার
নির্বাচনী ইশতেহারে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে একটি আধুনিক, নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের। নিচে প্রতিটি দফার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাসে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছাত্রদল। শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান উন্নয়নকে এই রূপান্তরের মূল হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা বৃদ্ধি এবং নারী নেতৃত্বে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৩. মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য বীমা
শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্যবীমা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও শিক্ষাগ্রহণ সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
৪. শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন
কারিকুলাম, অবকাঠামো ও পরীক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পাশাপাশি গবেষণার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে ইশতেহারে।
৫. যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন
শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করতে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিচালিত শাটল সার্ভিস চালু এবং ক্যাম্পাস ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রতিশ্রুত হয়েছে।
৬. হয়রানিমুক্ত প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেবাকে হয়রানিমুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষা ঋণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক পার্টটাইম চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়।
৭. তরুণ নেতৃত্ব ও সংস্কৃতি চর্চা
তরুণদের গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ততা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে বহুমাত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
৮. ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা
শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সুবিধা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৯. পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠন
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, প্রাণীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
১০. কার্যকর ডাকসু ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা
ডাকসুকে সক্রিয় ও কার্যকর করার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা পেশ করেছে প্যানেলটি।
ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। আমরা রাজনীতি নয়, সেবা ও নেতৃত্ব দিতে এসেছি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার জায়গাগুলো নিয়েই আমাদের এই ইশতেহার প্রণয়ন।”
এই প্রথম কোনো প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করল, যা ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতিপর্বে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই বলছেন, একটি কার্যকর ডাকসু গঠনে এমন সুস্পষ্ট অঙ্গীকার সময়োপযোগী।