জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: দেশে ধর্ষণের ঘটনা ও পরিসংখ্যান বৃদ্ধির পেছনে মামলা ও অভিযোগ নথিভুক্ত করার সুযোগ বাড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বর্তমানে নারী ও শিশুরা কোনো ধরনের সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই সহজে থানায় কিংবা অনলাইনে জিডি ও এফআইআর করতে পারছেন। ফলে আগের তুলনায় অপরাধের পরিসংখ্যান বেশি দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগামী অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মামলা করতে পারতেন না। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন অপরাধের তথ্য গোপনের সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে অপরাধ নথিভুক্তকরণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। দেশের যেকোনো স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরের তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করলে খুন, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
তিনি সংসদে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬টি।
রুমিন ফারহানা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবস্থার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করলেও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।