আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ নোটিশ পাঠান। এতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের জন্য অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় বিধান ও নির্দেশনা জারি করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে।
১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা করে নোটিশে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় জনগণের ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কম ভোট পেয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন, আবার বিপুলসংখ্যক ভোট কোনো প্রতিফলন পায় না। এতে ভোটের সমান মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটে না।
পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটের সমান মূল্যায়ন হবে এবং দলীয়ভাবে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ছোট দল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর সংসদে প্রতিফলিত হবে এবং একচেটিয়া প্রভাব কমে আসবে।
নোটিশে জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পিআর পদ্ধতি সফলভাবে কার্যকর হয়ে স্থিতিশীল সরকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, “সরকার যদি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পদক্ষেপ না নেয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে।”







