রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-৩৬ হলে রাত ১১টার পরে প্রবেশ করা ৯১ জন ছাত্রীকে প্রশাসন নোটিশ জারি করে। সেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে রাবি ছাত্রদলের শাহ-মখদুম হল শাখার সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি ওই ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলে কুরুচিপূর্ণ শেমিং করেন।
ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, “এটি শুধু সংশ্লিষ্ট হল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং দেশের পুরো নারী সমাজের জন্য অবমাননাকর মন্তব্য। নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ের একজন নেতার মুখে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
ছাত্রদলের ধারাবাহিক নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিয়মিতভাবেই নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে আসছে। তারা উল্লেখ করেন—
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম নিজে নারী হয়েও ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের ‘সেবাদাসী’ আখ্যায়িত করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন হিজাব পরিহিত নারীদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান নিপ্পন নারীদের নিয়ে অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করেন।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমাকে নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাসান আল আরিফ এবং চবির আরেক নেতা অশালীন মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নারীবিদ্বেষী, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সয়লাব করে তুলেছে ছাত্রদল। “হিজাব পরা ছাত্রীদের নিয়ে ‘সাক্ষাৎ হুর’, ‘হিজাববিহীন জান্নাতি’, ‘এদের জন্য তুমি হালাল’, ‘সেবাদাসী’ ইত্যাদি মন্তব্য ছাত্রদলের নারীবিদ্বেষী মুখোশ উন্মোচন করেছে।”
অতীতেও নারী নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ
ছাত্রশিবির নেতারা অভিযোগ করেন, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি ছাত্রদলের নতুন কিছু নয়।
২০০২ সালে বুয়েটের শিক্ষার্থী সাবেকুন্নাহার সনিকে হত্যা, একই বছরে ঢাবির শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলে শত শত ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনাকে তারা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাতেও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা গণমাধ্যমে এসেছে। যশোর, নেত্রকোণা, পাবনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
শিবিরের দাবি বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, নিজেদের “পাহাড়সম অপরাধ ঢাকতে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার চালাচ্ছে।” তারা দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ এসব ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে ছাত্রদলকে নারীবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।