নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পৃথক প্রশ্নপত্রে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে এবার সব কেন্দ্রেই নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২৬টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্র।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। এরপর রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।