অনলাইন ডেস্ক : মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির সরকারকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে আগ্রহী।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। শিগগিরই প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আরসিইপি (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জনে ভিয়েতনামের সমর্থনও কামনা করেন।
বৈঠকের শেষে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করে।