1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. abedali4249@gmail.com : dailydeshkantha :
  3. zaharuliofficial@gmail.com : Zaharul Islam : Zaharul Islam
নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ি - dailydeshkantha
১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| সোমবার| সকাল ৯:১৫|
শিরোনামঃ
সত্য আনলেন পূজা চেরি, জানালেন— ডিভোর্স চান না সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়নি কেন, ব্যাখ্যা চান জামায়াত আমির নিপীড়িত সাংবাদিকদের পাশে সব সময় থাকবে: বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা খার্গ দ্বীপ: মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপ’ করার হুমকি ইরানের ভোটের কালি মোচার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: তারেক রহমান বাগাতিপাড়ায় ফিলোন পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডসের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির ‘প্রিন্স’ -এর টিজার মুক্তির বিষয়ে যা জানা গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা : পেন্টাগনের কাছে জবাব চান ডেমোক্র্যাটরা

নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ২৪, ২০২৫,
  • 131 Time View
নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ি
নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে গরুর গাড়ি

মোঃ আব্দুস ছালাম , আত্রাই(নওগাঁ) প্রতিনিধি: এক সময়ের জনপ্রিয় গানে ধ্বনিত হতো “আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে, ধুতুর, ধুতুর, ধুতুর ধুর সানাই বাজিয়ে, যাব তোমায় শ্বশুর বাড়ি নিয়ে” গ্রামীণ জনপদের চলাচল ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই গরুর গাড়ি। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার বিবর্তনে যন্ত্রচালিত যানের প্রভাবে আজ এটি রূপকথার গল্পে পরিণত হয়েছে।

মৎস্য ও শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে এক সময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি। নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটলেও তা হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের এই অনন্য ঐতিহ্য। গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। জানা যায়, রাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বা বিপদে পড়লে গরুর গাড়িগুলোকে গোল করে সাজিয়ে এক ধরনের দুর্গ গড়ে তোলা হতো।

গরুর গাড়ি ছিল দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা বিশেষ যান। সাধারণত চালক বসতেন গাড়ির সামনের দিকে, আর পেছনে যাত্রী ও মালপত্র বহন করা হতো। কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল পরিবহনে এর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। একসময় উত্তরাঞ্চলের আঁকাবাঁকা মেঠোপথে কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল এটি।

দমদমা গ্রামের মো. আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, দুই যুগ আগে গরুর গাড়িতে চড়ে নতুন বর-বধূ যেত। গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বরপক্ষের লোকজন ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ির ছাওনি সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি যেত। রাস্তায় গরুর গাড়ি থেকে পটকা ফুটাত।

যে পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল অনেক। কৃষকরা ফজরের আগেই গরুর গাড়িতে করে জৈব সার, লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত। গাইত ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ এর মতো ভাওয়াইয়া গান।

চালককে উদ্দেশ্য করে রচিত হয়েছে ‘আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিয়া ন্যাং মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’ এর মতো জনপ্রিয় গান। কিন্তু বর্তমানে মোটরযানের কারণে ধীর গতির এই যানের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আগে গ্রামাঞ্চলে পাকা রাস্তা না থাকায় যান্ত্রিক যান চলত না, তাই গরুর গাড়িই ছিল ভরসা।

গরুর গাড়ির বড় সুবিধা হলো-এতে জ্বালানি লাগে না, ধোঁয়া হয় না, পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব। আবার ধীর গতির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কম। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্যবাহী বাহন আজ বিলুপ্তির পথে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে পড়ে জানতে হবে, এক সময় মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রকৃতিবান্ধব গরুর গাড়ি নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও দু-একটি দেখা গেলেও এখন তা ডুমুরের ফুল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                                    Themes Create by BDITWork