আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল বন্যার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠায় মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় জেলেরা। দীর্ঘদিন পর জলাশয়ে পানি ফিরে আসায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। বিভিন্ন নদী ও খাল-বিলের পাড়ে এখন বড়ফাঁসের জাল, খেপলা জাল, ঠেলা জাল, চারু, খলসান ও খড়া জাল নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে জেলেদের। অনেকে আবার নতুন করে জাল প্রস্তুত ও স্থাপনের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, আত্রাই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যাপ্রবণ এলাকা। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে আশপাশের খাল-বিল অল্প সময়েই পানিতে ভরে যায়। এবারও টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অনেকেই জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হন। তবে বর্ষার পানিতে জলাশয় ভরে ওঠায় এখন আবার মাছ শিকারে ফিরেছেন তারা।
উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। তাদের অধিকাংশই মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে শুধু বর্ষা মৌসুমের আয়ে সারা বছরের সংসার চালানো কঠিন বলে জানান তারা।
খঞ্জর গ্রামের মৎস্যজীবী অজিত কুমার হাওলাদার বলেন, “আগে সারা বছরই মাছ শিকার করা যেত। এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় মাছ ধরতে পারি না। তখন অন্য কাজ করে সংসার চালাতে হয়।”
আরেক মৎস্যজীবী স্বপন কুমার হাওলাদার বলেন, “এখন বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। নিষিদ্ধ রিংজালের অবাধ ব্যবহারে ছোট ছোট পোনাও ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।”
আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, “আত্রাইয়ের মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের স্বার্থে নিষিদ্ধ রিংজাল ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিংজাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ জাল জব্দের পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”