দেশকন্ঠ নিউজ ডেস্ক: ঢাকার মেট্রোরেলে দিন দিন যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে। চালুর পর এ পর্যন্ত মেট্রোরেলে ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৬ জন যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছেন।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার লাখের বেশি যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। প্রকল্প গ্রহণের সময় উত্তরা-মতিঝিল রুটে দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রীর প্রাক্কলন করা হয়েছিল। ফলে বর্তমান যাত্রীসংখ্যা সেই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মেট্রোরেলের সবচেয়ে বেশি যাত্রী ব্যবহার করা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিল, উত্তরা উত্তর, পল্লবী, মিরপুর-১০, কারওয়ান বাজার ও সচিবালয়। এর মধ্যে মতিঝিল স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ৫১ হাজার ৫৪২ জন যাত্রী প্রবেশ করেন এবং ৫১ হাজার ৩৬ জন বের হন। অন্যদিকে উত্তরা দক্ষিণ, বিজয় সরণি ও উত্তরা সেন্ট্রাল স্টেশনে তুলনামূলক কম যাত্রী চলাচল করেন।
যাত্রী বাড়ার সঙ্গে টিকিট বিক্রির আয়ও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আংশিক চালুর সময়ে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ২২ কোটির বেশি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় বেড়ে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনিরীক্ষিত হিসাবে তা প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তবে আয় বাড়লেও মেট্রোরেলের সামনে বড় আর্থিক দায় রয়েছে। এমআরটি-৬ প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে পাঁচটি ঋণচুক্তির মাধ্যমে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। সুদসহ এই ঋণ আগামী ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৩ হাজার ৭০০ কোটির বেশি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা কিস্তি দিতে হবে।
মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর প্রায় ৫৯ শতাংশ এসেছে জাইকার ঋণ থেকে। পাশাপাশি বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে।
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, মেট্রোরেলের সক্ষমতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে চলাচলের সময় বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দুই ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতির সময় কমিয়ে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে বছরে টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী জানুয়ারিতে এ অংশে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রসারিত অংশ চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রেলব্যবস্থার সঙ্গে মেট্রোরেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
শুধু টিকিট বিক্রির ওপর নির্ভর না করে বিকল্প আয় বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্টেশনের অব্যবহৃত জায়গায় দোকান বরাদ্দ, পার্কিং সুবিধা এবং বাণিজ্যিক স্থান ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রীসংখ্যা ও আয় বাড়লেও মেট্রোরেলের পরিচালন ব্যয় এবং ঋণের কিস্তি ভবিষ্যতে বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই বাড়তি যাত্রী পরিবহন, ট্রেনের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং টিকিটের বাইরে আয় বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।