জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর নতুন করে চাপে পড়েছে দেশের পরিবহন খাত। ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ায় দূরপাল্লার বাসে প্রতি ১০০ কিলোমিটারে শুধু জ্বালানি বাবদ খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৭১ টাকা।
পরিবহন মালিকদের হিসাবে, একটি সাধারণ ৪৫ আসনের দূরপাল্লার বাস প্রতি লিটার ডিজেলে গড়ে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার চলতে পারে। আগের দরে প্রতি কিলোমিটারে ডিজেল খরচ হতো প্রায় ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা। নতুন দরে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সা।
অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা ৭১ পয়সা। সে হিসাবে ১০০ কিলোমিটার পথে আগে ডিজেলে খরচ হতো প্রায় ৩ হাজার ২৮৬ টাকা। এখন একই দূরত্বে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮৫৭ টাকা।
ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে বাড়তি খরচ ৫ হাজার টাকা
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব প্রায় ৪৩৮ কিলোমিটার। পরিবহন মালিকদের দেওয়া হিসাবে, এই রুটে একটি বাসের যাতায়াতে প্রায় ২৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।
আগের দরে ২৫০ লিটার ডিজেলের জন্য খরচ হতো ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। নতুন দরে একই পরিমাণ ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ একটি আপ-ডাউন যাত্রায় জ্বালানি বাবদ বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।
গড়ে ৫০ জন যাত্রী থাকলে শুধু এই অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের হিসাবে যাত্রীপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বাড়তি ব্যয় দাঁড়ায়। কোনো বাস মাসে ২৫ দিন চললে শুধু জ্বালানি বাবদ মাসিক অতিরিক্ত খরচ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হতে পারে।
ভাড়া সমন্বয়ের দাবি মালিকদের
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন মালিকরা নতুন করে চাপে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়মিত ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানান তিনি।
মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাস মালিক মো. কামরুল ইসলাম বাবুলও বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া নতুন করে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি, ডলার ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ফলে নতুন করে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যবসায় চাপ আরও বাড়বে।
যাত্রীদের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ
অন্যদিকে, ভাড়া বাড়ানোর সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাদের বক্তব্য, জ্বালানির দাম বাড়লে দ্রুত বাসভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও দাম কমলে একইভাবে ভাড়া কমানোর নজির কম।
ফলে নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয়ের ওপর। পরিবহন মালিক ও যাত্রী—দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার কীভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।