অনলাইন নিউজ: বাংলার প্রাচ্য-চিত্রকলার ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও নন্দনতত্ত্বের এক অনন্য মেলবন্ধনে শুরু হয়েছে অধ্যাপক মলয় বালার একক চিত্রপ্রদর্শনী — ‘পবিত্র সৌন্দর্যের সন্ধানে: মলয় বালার ভক্তিমূলক শিল্প’। প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিখাইল ইদ্রিস, লার্নিং ডিজাইনার, লার্নিং ডিজাইন স্টুডিও।
এই প্রদর্শনী উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুন, চিত্রশিল্পী সমর মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক শরিফা আক্তার।
১১ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৮ অক্টোবর এবং চলবে ২৮ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। স্থান: আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, লা গ্যালারি। প্রদর্শনী প্রতিদিন (রবিবার ব্যতীত) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
গোপালগঞ্জের রামশীল গ্রামে ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া শিল্পী মলয় বালা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক। ২০১৪ সালে তিনি ‘বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রাচ্য-চিত্রকলার ধারা’ বিষয়ক গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ পর্যন্ত তাঁর তিনটি একক প্রদর্শনীর আয়োজন হয়েছে—
১️⃣ প্রাচ্যগৃহ: আমার শিল্পজগৎ (২০০৭)
২️⃣ শকুন্তলার পুনর্মিলনী (২০১৫)
৩️⃣ পবিত্র সৌন্দর্যের সন্ধানে: মলয় বালার ভক্তিমূলক শিল্প (২০২৫)।
শিল্পী মলয় বালা বলেন,
“আমি আঁকি ঈশ্বরের সান্নিধ্য খুঁজে পেতে, ধ্যান করতে এবং তাঁর আরও কাছাকাছি যেতে। আমার হৃদয় অনুভব করে ঐশ্বরিক সত্তাকে—পবিত্র পুরাণে, আধ্যাত্মিক গুরুশ্রেষ্ঠদের মধ্যে, প্রকৃতির পবিত্র সৌন্দর্যে এবং নারীর মর্যাদাময় অনুগ্রহে—যা আমি আমার চিত্রে প্রকাশের চেষ্টা করি।”
বর্তমান প্রদর্শনীতে রয়েছে মোট ৮০টি শিল্পকর্ম, যা চারটি পর্বে বিন্যস্ত—শকুন্তলা, ধর্ম, নারী ও প্রকৃতি।
‘শকুন্তলা’ পর্বে পৌরাণিক চরিত্র ও শকুন্তলার জীবনোপাখ্যান চিত্রিত হয়েছে।
‘ধর্ম’ পর্বে দেখা যাবে বুদ্ধ, শ্রীকৃষ্ণ, দেবী দুর্গা প্রমুখ ধর্মীয় চরিত্রের প্রতিকৃতি।
‘নারী’ পর্বের কাজগুলো দৃশ্যত ফিগারেটিভ।
‘প্রকৃতি’ পর্বে ধরা পড়েছে পশু-পাখি, ল্যান্ডস্কেপ ও প্রকৃতির আধ্যাত্মিক আবহ।
শিল্পীর ভাষায়, তাঁর শিল্পচর্চা এক ধরনের ধ্যান ও সাধনা—ঈশ্বরের সান্নিধ্য অর্জনের এক নীরব প্রয়াস। তাঁর প্রতিটি চিত্র যেন একেকটি প্রার্থনা, একেকটি নিবেদন।
কিউরেটর মিখাইল ইদ্রিস বলেন,
“শিল্পী মলয় বালার শিল্পসাধনা এক আধ্যাত্মিক প্রেরণার প্রকাশ—যা পৃথিবী, প্রকৃতি ও জীবজগৎকে পবিত্র আলোর মধ্যে উদ্ভাসিত করে। তাঁর শিল্প আত্মার ঐশ্বরিক মিলনের আকাঙ্ক্ষাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে।”
প্রদর্শনীতে প্রাচ্যধারার জলরং ধৌত (wash) পদ্ধতির কাজই বেশি দেখা যাবে। পাশাপাশি গোয়াশ, টেম্পারা ও অ্যাক্রেলিক মাধ্যমেও তৈরি কয়েকটি চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলা সংগীত পরিবেশনা, লোক ও প্রাচ্য শিল্পবিষয়ক কর্মশালা এবং শিল্পীর সঙ্গে কথোপকথনের আয়োজন। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর সংযোজন-বিয়োজনের ফলে দর্শকরা প্রতিদিন নতুন চিত্রের স্বাদ পাবেন। প্রদর্শনী চলাকালীন সময়ে বাঁশি, দোতারা, একতারা, সারিন্দা, সেতার, সারেঙ্গী প্রভৃতি যন্ত্রে সরাসরি সংগীত পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হবে।