ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ অবসানের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও টেকনোক্র্যাটভিত্তিক প্রশাসন গঠনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) হামাসের হাই কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “১৮ আগস্ট মধ্যস্থতাকারীরা গাজা পরিচালনার জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হামাসের হাইকমান্ড সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। এখন আমরা ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছি।”
হামাস জানিয়েছে, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গাজার যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করবে। এর বিনিময়ে তারা চায়—
গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী উপত্যকা থেকে প্রত্যাহার করবে, খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের জন্য সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া হবে, গাজায় পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।
এছাড়া হামাস সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হলেও তারা দাবি করেছে, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদেরও মুক্তি দিতে হবে। মুক্তির সংখ্যার বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হামাসের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর হামাসের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধ অবিলম্বে থামবে। শর্তগুলো হলো— সব জিম্মি মুক্তি, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, গাজার অসামরিকীকরণ, নিরাপত্তা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এমন একটি বেসামরিক সরকার গঠন যা সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেবে না।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে একাধিক হামলা চালিয়ে ১,২০০ জনকে হত্যা ও ২৫০ জনকে জিম্মি করে। এর জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অভিযান শুরু করে, যা এখনও চলছে।
ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন ৬৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও অর্ধলক্ষাধিক। দীর্ঘ সময় ধরে টানা গোলাবর্ষণে উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ সরবরাহে বাধার কারণে সেখানে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এখনও অন্তত ২০ জন জীবিত রয়েছে।