নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে; কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিতদের ভর্তি কার্যক্রম ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সোমবার (২৪ আগস্ট) একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
নীতিমালা অনুযায়ী, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আগের দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
বিভাগ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এবার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
ভর্তি ফি কত
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা পর্যায়ে বাংলা মাধ্যমে ৩ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল পর্যায়ে বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।