জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
ফলাফল ঘোষণার আগে দায়িত্ব পালনকালে প্রীতিলতা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব এ কে এম রাশিদুল আলম ও সদস্য লুৎফুল এলাহীর উপস্থিতিতে ফল প্রকাশ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোট গণনা সম্পন্ন হওয়ার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ।
গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয় এবং রাত ১০টার পর থেকে গণনা শুরু হয়। টানা শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত গণনা চললেও পরে নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠক ডেকে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পুনরায় শুক্রবার সন্ধ্যায় গণনা শুরু হলেও সেদিন ফল প্রকাশ হয়নি। দুই দফায় সময় বাড়ানোর পর শনিবার বিকেলে ফল ঘোষণা শুরু হলো।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৭২৮ জন এবং ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১৫ জন। ভোট পড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ।
ছাত্রদের ১১টি হলে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৮৩ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—তাজউদ্দীন আহমদ হলে ৯৪৭ জন, জাতীয় কবি নজরুল হলে ৯৯২ জন এবং ২১ নম্বর ছাত্র হলে ৭৩৫ জন। অন্যদিকে ছাত্রীদের ১০টি হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৭২৮ জন। সর্বাধিক ভোটার ছিলেন তারামন বিবি হলে ৯৮৩ জন এবং রোকেয়া হলে ৯৫৬ জন।
জাকসুর ২৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন লড়াই করছেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ৮টি প্যানেল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থিত প্যানেল। ভোটগ্রহণ হয় ২১টি কেন্দ্রে মোট ২২৪টি বুথে।