দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, বিনোদন জগতেও। বিশেষ করে যেসব শিল্পী পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, প্রচারণা বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন, এখন তাদের অনেকেই নানা ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এ তালিকায় রয়েছেন জনপ্রিয় তারকা আরিফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া, শাকিব খান, খায়রুল বাসার, নাজিফা তুষি, আরশ খান, মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া, সুনেরাহ বিনতে কামালসহ আরও অনেকেই।
তবে এ বিষয়ে অধিকাংশ শিল্পী এখনো নীরব থাকলেও মুখ খুলেছেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তী। তিনি সরাসরি বলেছেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়।
“আমরা শিল্পী, রাজনৈতিক যন্ত্র নই”—মন্দিরা চক্রবর্তী
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মন্দিরা বলেন,
“আমরা শিল্পী, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমরা তাকে সম্মান করি। যদি কোনো সরকারি প্রকল্পে আমাদের শিল্পচর্চার সুযোগ দেওয়া হয়—গান, নাচ, অভিনয়—তা আমরা করতেই পারি। এটা তো কোনো অপরাধ নয়, অন্যায়ও নয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর যদি ওই কাজের জন্য আমাদের হেনস্তা হতে হয়, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সমস্যাটা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত, কিংবা একেবারেই না হওয়াই ভালো।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন,
“মুজিব সিনেমায় অভিনয় করায় নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে যা হলো—বিমানবন্দরে তাকে আটকানো হয়েছে; আরিফিন শুভ ভাইয়ের প্লট বাতিল করা হয়েছে—এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
“একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে”—উত্তরণের পথ দেখালেন মন্দিরা
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়েও স্পষ্ট মত দিয়েছেন মন্দিরা। তিনি বলেন,
“দুটি পথ আছে—
এক: সমস্ত শিল্পী মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা সরকারি কোনো কাজ করব না। কারণ, পাঁচ বছর পর সরকার বদল হলে যদি আমাদের আবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়, নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে সেই কাজ না করাই ভালো।
দুই: যদি আমাদের দিয়ে সরকারি কোনো কাজে অংশ নেওয়া হয়, তবে সেটি নিয়ে আমাদের যেন ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না হয়—এই নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“শিল্পীরা দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নয়। আমাদের ব্যবহার করা যাবে না রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে।”
শিল্পীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন
বিনোদন অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শিল্পীদের জন্য উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিল্পীরা যখন সরকারি বা জাতীয় প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন, তখন তা কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে নয় বরং পেশাগত ও সৃজনশীল দায়িত্ববোধ থেকেই করেন। তাই সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও কাজের অবমূল্যায়ন অনভিপ্রেত।
এই বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিংবা নতুন সরকারের অবস্থান কী, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে শিল্পী সমাজের উদ্বেগ এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতি যাই হোক, সাংস্কৃতিক অঙ্গন যেন থাকে নিরপেক্ষ, নিরাপদ ও সম্মানজনক।