ক্রীড়া প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলছেন মুশফিকুর রহিম। সাদা বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও লাল বলের ক্রিকেটে এখনো নিয়মিত খেলছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটের বেশ কয়েকটি বড় জয়ের সাক্ষীও তিনি। চলমান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও দলের সঙ্গে আছেন মুশফিক।
প্রথম টেস্টে জয়ের পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ছিল উৎসবের আবহ। দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সতীর্থদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন মুশফিক। সেখানে টেস্ট ক্রিকেট থেকে ভালো কিছু স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে চান বলেও জানান তিনি।
মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশের লাল বলের দলের এই পথচলা থেকে যদি কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি, সেটাই আমার জন্য অনেক বড় স্মৃতি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছে। তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মুশফিক বলেন, ‘আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির কোনো শেষ নেই, সীমা আসলে আকাশ পর্যন্ত। তাই এই জয় উদযাপন করো, আনন্দ করো; কিন্তু এরপরই ভাবতে হবে, কীভাবে আবারও এমন পারফরম্যান্স করা যায়।’
টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই বলেও সতীর্থদের মনে করিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘এর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করতেই হবে, প্রতিদিন একইভাবে লেগে থাকতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে সাড়ে তিন থেকে চার দিন মাঠের ভেতরে-বাইরে যে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়, তার অনুভূতি তোমরা এখন বুঝতে পারছো। টেস্ট ক্রিকেট এমনই।’
জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি প্রতিদিনের কাজের ধরন ও মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মুশফিক বলেন, ‘জয়-পরাজয়ের বাইরে প্রতিদিনের কাজের ধরন এবং মানসিকতাই আসল। তোমাদের মনোযোগ থাকতে হবে প্রক্রিয়ার ওপর। প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ফলাফল একসময় নিজে থেকেই আসবে।’
এ সময় মুমিনুল হককে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মুশফিক। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মুমিনুলকে নিয়ে একটা বিষয় বলতে চাই। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সেই বড় জয়ের সময় আমাদের পরিকল্পনা ছিল খুব সহজ—প্রতিটি সেশন জিততে হবে। পুরো ম্যাচটাকে আমরা যেন একটা ওয়ানডে ম্যাচের মতো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দিনে তিনটি সেশনের মধ্যে অন্তত দুটি, সম্ভব হলে তিনটিই নিজেদের করে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল।’
অভিজ্ঞ মুশফিকের এই কথায় টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য ধারাবাহিকতা, পরিশ্রম ও প্রক্রিয়াভিত্তিক ক্রিকেটের গুরুত্বই উঠে এসেছে।