ক্রীড়া প্রতিবেদক: ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় এই জয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি এই জয়কে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জয়ের পর দলের খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টকে সব কৃতিত্ব দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। ক্রিকইনফোকে তামিম বলেন, ‘এটা দারুণ অর্জন। এই ছেলেরা যা অর্জন করেছে, তা দুর্দান্ত। এটা কেবল একটি জয় নয়, এটা বিশ্বের প্রতি একটা বার্তা।’
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আমরা যেমন খেলছি, পাকিস্তান সিরিজেও যেমন পারফর্ম করেছি, সেটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফাস্ট বোলিং ইউনিটকে অনেক কৃতিত্ব দিতে হবে। তাদের কারণেই আমরা ম্যাচে জয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারছি। অবশ্যই, এই সফরে ব্যাটাররাও দারুণ করছে।’
দলের এই সাফল্যে নিজের গর্বের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি অনেক খুশি এবং অনেক গর্বিত। এই জয়ের কৃতিত্ব খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। তারা অনেক পরিশ্রম করে এই অর্জন পেয়েছে। বোর্ডে আমরা কেবল তাদের সুযোগ-সুবিধা দিই, এটাই আমাদের কাজ। এখানে আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং আমাদের উচিত তাদের কৃতিত্ব দেওয়া। হয়তো এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা জয়।’
সিরিজ শুরুর আগে টেস্ট দলের অধিনায়কের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেন তামিম। তিনি জানান, অধিনায়ক তাকে বলেছিলেন, দল বিশ্বাস করে তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে পারবে।
তামিম বলেন, ‘আমার মনে আছে, অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সে বলেছিল, দলের সঙ্গে কথা বলার সময় সবাই বিশ্বাস করেছিল যে তারা জিততে পারে। সে আমাকে বলেছিল, দল বিশ্বাস করে আমরা জিততে পারি। আমি বলেছি, অবশ্যই, কেন নয়? অবশ্যই অনেক কঠিন কাজ হবে। অনেক বড় দলের জন্যই এটি কঠিন। দল যদি বিশ্বাস করে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারেন না আপনি। সেই বিশ্বাসটাই বাস্তবায়ন হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন সিরিজ জয়ের হাতছানি। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে চাননি তামিম।
তিনি বলেন, ‘আমার আসলে কোনো প্রেডিকশন করা উচিত নয়, কৃতিত্বও নেওয়া উচিত নয়। খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্ট সেখানে আছে। তারাই ব্যাট-বল করবে।’
বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় শুধু সিরিজের শুরু নয়, টেস্ট ক্রিকেটে দলের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের বড় এক প্রমাণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।