স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান এবং পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি এর আগে কেউ গড়তে পারেননি।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে একমাত্র দুই অঙ্কের রান করা ব্যাটারদের একজন ছিলেন শরিফুল। ১৯ বলে তিন চারে ১৪ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। তাঁর সঙ্গে শেষ উইকেটে ২৫ রানের জুটি গড়েন তাইজুল ইসলাম, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি।
এরপর বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্টিভ স্মিথের উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি জুটি ভাঙেন। এরপর বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। শেষ পর্যন্ত তাঁর শিকার দাঁড়ায় ৬টি।
এটি টেস্টে শরিফুলের প্রথম পাঁচ উইকেটের শিকার। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সে নিজের প্রত্যাবর্তনও স্মরণীয় করে রাখলেন এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষে শরিফুলের বোলিং ফিগার ছিল ৬ উইকেট ৩৫ রান।
এর আগে টেস্টে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান করার নজির ছিল বেশ কয়েকজনের। অস্ট্রেলিয়ার ফ্রেডেরিক স্পোফোর্থ, দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ট ভোগলার, পাকিস্তানের আসিফ মাসুদ, শ্রীলঙ্কার আমেরাসিংহে, বাংলাদেশের তালহা জুবায়েরসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন ব্যাটার এই তালিকায় ছিলেন। তবে তাঁদের কেউই একই ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নিতে পারেননি।
শরিফুলের এই কীর্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও যোগ হলো বিরল এক অধ্যায়। এর আগে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে ১১ নম্বরে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছিলেন তালহা জুবায়ের। এবার শরিফুল সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন।
তবে শরিফুলের বোলিং নৈপুণ্য সত্ত্বেও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ বড় বিপাকে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেটের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে ১০১ রানের লিড নিয়েছে।