1. dailyainerkantho@gmail.com : admin :
  2. abedali4249@gmail.com : dailydeshkantha :
  3. zaharuliofficial@gmail.com : Zaharul Islam : Zaharul Islam
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ : কার হাতে যাচ্ছে নতুন কমিশন? - dailydeshkantha
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| রাত ৯:৩৬|

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ : কার হাতে যাচ্ছে নতুন কমিশন?

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬,
  • 61 Time View

অনলাইন নিউজ: আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারের বড় অংশীজনরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেয়ারবাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তবে, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বাজারে আস্থা ফেরাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের ঘোষিত সংস্কার পদক্ষেপগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে পড়ে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শেয়ারবাজার আরও নিম্নগামী হয়, যার চরম মূল্য দিতে হয় বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে।

ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার-সংশ্লিষ্টরা আবারও আশাবাদী হয়ে উঠছেন। এখন সব মহল থেকেই দাবি উঠছে— বাজার সংস্কারের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার জরুরি। তারা বিএসইসির (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) নেতৃত্বে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি চান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পরিবর্তে বাজার সম্পর্কে ব্যবহারিক ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এড়িয়ে চলা এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।

বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পুঁজিবাজার ছাড়ছেন ট্রেক হোল্ডাররাও
মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশেকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে, এবার যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অনেক বছর শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে দেখা গেছে বাজারে আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। বাজার-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিলে তা ইতিবাচক হবে বলে আশা করি।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএসইসির নেতৃত্বে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া জিয়াউল হক খন্দকারের সময়ে বাজারে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ বিতরণ, শর্ত উপেক্ষা করে রাইটস শেয়ার ও সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের অনুমোদনের মতো নানা অনিয়ম ঘটে। পরে নিয়োগ পাওয়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সময়ে বিতর্ক, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

২০১১ সালে অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সময়ে বহু দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে পরে ‘জাঙ্ক’ শেয়ারে পরিণত হয়। রিং শাইন টেক্সটাইলের মতো কোম্পানিও ভুয়া আর্থিক বিবরণী দেখিয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন পায়। এছাড়া, মূল্য নির্ধারণে ‘ফ্লোর প্রাইস’ চালু এবং বন্ধ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বিতর্ক তৈরি করে। ২০২০ সালে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বে ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৮ আগস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। একদিন পর ১৯ আগস্ট সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি অতীতের দুর্নীতি খতিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ করেন। কিন্তু বাজারে অস্থিরতা বন্ধ করতে পারেননি। পাশাপাশি তিনি বিধি সংস্কারে জোর দিলেও ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার ঘাটতিতে সংস্থার কর্মকর্তাদের এক ছাতার নিচে আনতে পারেননি। এতে কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সংস্থাটিকে কার্যত অচল করে তোলে।

তার সময়ে সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় প্রায় ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী বাজার ছাড়তে বাধ্য হন এবং শতাধিক ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা দফায় দফায় তার পদত্যাগ দাবি করে রাজপথে নামেন।

দেড় বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান

অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল ভালো ও মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। বিপরীতে পুরো দেড় বছরে একটি কোম্পানিও তালিকাভুক্ত হয়নি। প্রত্যাশা ছিল সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির পথ সহজ হবে। তবে, সংস্কার হওয়া আইপিও রুলস বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য উপযোগী হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনীহায় আটকে রয়েছে। অন্যান্য সংস্কার উদ্যোগও আমলাতান্ত্রিক লালফিতার জটিলতায় আটকা পড়েছে। মোটাদাগে আইপিও রুলস, মার্জিন রুলস এবং মিউচুয়াল ফান্ড রুলসে সংস্কার করা হলেও তিনটি সংস্কারই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দেড় বছরে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার দেখা যায়নি।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার দিনে (১৯ আগস্ট ২০২৪) দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পাঁচ হাজার ৭৭৫ পয়েন্টে ছিল। এটি দেড় বছর পর (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৩০৯ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে নেমেছে। এই সময়ের মধ্যে বাজারে লেনদেন কমে ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যায়, ফলে পুরো শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজার ছাড়েন ৮৭ হাজার বিনিয়োগকারী। লেনদেন খরায় লোকসানের চাপে শতাধিক ব্রোকারেজ হাউজের শাখা ও মূল অফিসও বন্ধ হয়ে যায়। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় অঙ্কের পরিচালন লোকসান হয়। আস্থা হারানো বাজারে টানা পতনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা মাকসুদের পদত্যাগ চেয়ে বিএসইসি অবরোধসহ দফায় দফায় রাস্তায় নামেন। তা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে পদে বহাল রাখার অভিযোগ ওঠে।

নতুন কমিশনের দৌড়ে যারা আলোচনায়

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ না পেরোতেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদগুলোতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কমিশনের বর্তমান নেতৃবৃন্দ পদে থাকবেন নাকি পদ ছাড়তে হবে তা কোনো পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে, এরই মধ্যে নতুন কমিশনে দায়িত্ব পেতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অনেকগুলো সুপারিশ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অনেকে আবার দায়িত্ব পালনে আগ্রহী না হলেও আলোচনায় নাম আসছে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কমিশনের শীর্ষ পদে (চেয়ারম্যান) নিয়োগ পেতে এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধ ডজন সুপারিশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কমিশনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, বহির্বিশ্বের পুঁজিবাজারে অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বাজার অংশীজনসহ অনেকের নাম। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন পুঁজিবাজারে দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। দেশে ও দেশের বাইরে বাণিজ্য তথা পুঁজিবাজারে তার দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডিএসইতে পাঁচ বছরের অধিক সময় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দুই যুগের বেশি সময় বিএসইসিতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সাবেক কমিশনার এটিএম তারিকুজ্জামানও আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় এশিয়ার বৃহত্তম হেজ ফান্ড (সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান) টাইবোর্ন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি তানভীর গনির নামও রয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা বাংলাদেশি এই বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়।

একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার নামও একটি পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে তিনি আগ্রহ দেখাননি। তার ভাষায়, অনেকে নাম প্রস্তাব করেন ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়ার আশায়। সরকারের উচিত নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই নীতিনির্ধারকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে কাউকে যদি নিয়োগ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন আসবে কি না, সেটি বিশ্লেষণ করে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

নতুন সরকারের পরিকল্পনা

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শেয়ারবাজার সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এছাড়া, দলটির ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আনয়ন, কারসাজি বন্ধ করা, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন, কর্পোরেট বন্ড ও সুকুক প্রবর্তন এবং প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু করার অঙ্গীকার করা হয়।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্য করা, স্টার্ট-আপ ও এসএমই খাতের জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ ব্যবস্থা চালু করা, পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসার নিয়েও অঙ্গীকার করা হয়।

নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত শুক্রবার চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজারে একটি বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে। যা হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে। জনগণ যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এই বাজার পরিচালিত হতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন আনতে হবে। বিএসইসিকে নিয়ে আমাদের অনেকগুলো আইনকানুন পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে আমরা একটি ভালো শেয়ারবাজার পাই। জনগণ সেখানে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। দেশি ও বিদেশি ফান্ড আনতে হবে শেয়ারবাজারে। এই বাজারের উন্নয়নের মাধ্যমে সারা দেশের উন্নয়ন হবে। শেয়ারবাজারের মাধ্যমে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

অংশীজনদের মতে, নতুন সরকার যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বার্থ-সংঘাতমুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারে, তবে দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরতে পারে। ১৯৯১-৯৫ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে পুঁজিবাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের নেতৃত্ব কাদের হাতে তুলে দেয় এবং তারা কতটা কার্যকরভাবে বাজারে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025                                    Themes Create by BDITWork