জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট বা গণপরিষদ গঠনের চিন্তা-ভাবনাকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই সনদের বর্তমান অগ্রগতি ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলীয় নীতিনির্ধারকদের অবহিত করেন। সূত্র জানায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ, গণভোট আয়োজন এবং একটি গণপরিষদ গঠন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া অনুযায়ী গণভোট বা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চাইছে, নির্বাচনের আগেই গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সনদের বাস্তবায়ন।
তবে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। দলটির নীতিনির্ধারকরা বৈঠকে বলেন, জুলাই সনদ জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অঙ্গীকার, যা আইন কিংবা সংবিধানের ধারা ছাড়াও একটি শক্তিশালী নৈতিক প্রতিশ্রুতি। দলটি মনে করে, এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তার রাজনৈতিক মূল্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই নির্ধারণ করবে।
বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব সংস্কার প্রস্তাব সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই, সেগুলো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচন পূর্বেই বাস্তবায়ন সম্ভব। আর সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় প্রস্তাবগুলো পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের কাছে পাঠানো হবে। আগামী দিনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এই অবস্থান উপস্থাপন করবে বিএনপি।
বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না হলে নির্বাচন হবে না বা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না— এমন কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি মনে করে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক মত প্রকাশ, যা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা উচিত। এ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে যাবে না বিএনপি।
এছাড়া, প্রশাসন ও পুলিশের সাম্প্রতিক বদলি ও রদবদলের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে— এমন প্রচারণা নিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এসব বদলির সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে সরকার চাইলে বিএনপি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে, এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ করাও সম্ভব—যিনি সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন। কিন্তু অকারণে এসব বিষয়ে বিএনপিকে জড়ানো অনুচিত বলে মত দিয়েছে দলটি।