রাশেদ রাসু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ওসমান গনির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওসমান গনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। প্রতিদিন সকালে স্বাক্ষর করেই চলে যান নিজের মতো। এছাড়া পৌরসভার কাজে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না বলেই জানিয়েছেন সহকর্মীরা। পৌর ভবনের নিচতলায় ওসমান গনি নিজেই আরেকটি অফিস খুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি পৌর কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দেন। এমনকি কর্মকর্তারা তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করলে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য তৈরি করে কিছু সাংবাদিকের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করান।
লোহাগড়া পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ওসমান গনি কম্পিউটারের কাজে পারদর্শী হওয়ায় পৌরসভার লোকবল কম থাকায় কিছুদিন প্রকৌশল শাখা ও ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করার সুবাদে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় তথ্য তিনি বাইরে পাচার করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে যোগ দেন ওসমান গনি। তখন থেকেই তিনি পৌরসভার রোলার ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। পরে পৌরসভার দুটি ট্রাক ও একটি রোলার নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসলেও এর কোনো হিসেব পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু বলতে গেলে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।
ওসমানের এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লোহাগড়া পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উন্নয়নমূলক কাজ ও অফিস নিয়মিত না করার ব্যাপারে উদাসীন এবং অফিসের গোপনীয়তা রক্ষা না করার অভিযোগ আনা হয়।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত ওসমান গনিকে পৌরসভা কার্যালয়ে খোঁজ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি, যে কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসক মিঠুন মৈত্র বলেন, এমন অনিয়মের তথ্য আমিও শুনেছি। ইতোমধ্যে অফিসের অন্যান্য স্টাফরাও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।